০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধায় নদীগর্ভে ৮টি স্কুল, পাঠদানে সংকট

 

গাইবান্ধায় এবার নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে ছাপরাঘরে কিংবা খোলা আকাশের নিচে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরও কিছু বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে।

গাইবান্ধার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং তিস্তা ও যমুনা নদী। প্রতিবছর বর্ষায় ভাঙন দেখা দেয় এসব নদ-নদীতে। এতে বিলীন হয় জমি, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এবার বর্ষাতেও ভাঙনের কবলে পড়ে অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে বিলীন হয়েছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার সীতাসতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; ফুলছড়ি উপজেলার আঙ্গারীদহ, উত্তর খাটিয়ামারি, চর চৌমোহন, চর পিপুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কটকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সম্প্রতি ভাঙনকবলিত বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকেরা। পড়াশোনার পরিবেশ না থাকায় উপস্থিতির হারও অনেক কম। কোনো কোনোটিতে দু-চারজন শিক্ষার্থীও লক্ষ করা গেছে।

ফুলছড়ি উপজেলার উত্তর খাটিয়ামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঈশা মণি বলে, ‘গত বছরও আমদের স্কুলটা সুন্দর ছিল। এ বছর হঠাৎ করে নদীতে ভেঙে যায় স্কুল। এখন স্কুলঘর নাই, আমাদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কাপাসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার গ্রামের একটি জনপদের নাম ভোরের পাখি। চলতি বছর কয়েক দফা তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়েছে ভোরের পাখি নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কোনোমতে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর নদীশাসনের দাবি জানান তাঁরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, এ বছর জেলায় ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়। চরের কখন কোন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তা জানার উপায় নেই। এ জন্য স্থায়ীভাবে ভবন তৈরি করাও সম্ভব না। তবে পাঠদানে যেন বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে সদর উপজেলার মোল্লার চর ইউনিয়নের চিতুলিয়া দিঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাঘাটা উপজেলার গাড়ামারা সিপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুন্দরগঞ্জের চর কাপাসিয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর কাপাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলছড়ির এরেন্ডাবাড়ী চর হরিচন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সন্ন্যাসীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নতুন করে ভাঙছে, সেসব এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হবে। বর্তমানে জরুরি কাজ ছাড়া অন্য কিছুর বরাদ্দ নেই।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা শুরু

গাইবান্ধায় নদীগর্ভে ৮টি স্কুল, পাঠদানে সংকট

Update Time : ০৭:০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

গাইবান্ধায় এবার নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে ছাপরাঘরে কিংবা খোলা আকাশের নিচে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরও কিছু বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে।

গাইবান্ধার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং তিস্তা ও যমুনা নদী। প্রতিবছর বর্ষায় ভাঙন দেখা দেয় এসব নদ-নদীতে। এতে বিলীন হয় জমি, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এবার বর্ষাতেও ভাঙনের কবলে পড়ে অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে বিলীন হয়েছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার সীতাসতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; ফুলছড়ি উপজেলার আঙ্গারীদহ, উত্তর খাটিয়ামারি, চর চৌমোহন, চর পিপুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কটকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সম্প্রতি ভাঙনকবলিত বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকেরা। পড়াশোনার পরিবেশ না থাকায় উপস্থিতির হারও অনেক কম। কোনো কোনোটিতে দু-চারজন শিক্ষার্থীও লক্ষ করা গেছে।

ফুলছড়ি উপজেলার উত্তর খাটিয়ামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঈশা মণি বলে, ‘গত বছরও আমদের স্কুলটা সুন্দর ছিল। এ বছর হঠাৎ করে নদীতে ভেঙে যায় স্কুল। এখন স্কুলঘর নাই, আমাদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কাপাসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার গ্রামের একটি জনপদের নাম ভোরের পাখি। চলতি বছর কয়েক দফা তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়েছে ভোরের পাখি নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কোনোমতে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর নদীশাসনের দাবি জানান তাঁরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, এ বছর জেলায় ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়। চরের কখন কোন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তা জানার উপায় নেই। এ জন্য স্থায়ীভাবে ভবন তৈরি করাও সম্ভব না। তবে পাঠদানে যেন বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে সদর উপজেলার মোল্লার চর ইউনিয়নের চিতুলিয়া দিঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাঘাটা উপজেলার গাড়ামারা সিপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুন্দরগঞ্জের চর কাপাসিয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর কাপাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলছড়ির এরেন্ডাবাড়ী চর হরিচন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সন্ন্যাসীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নতুন করে ভাঙছে, সেসব এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হবে। বর্তমানে জরুরি কাজ ছাড়া অন্য কিছুর বরাদ্দ নেই।