০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমল

 

উপসাগরীয় অঞ্চলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৯ দশমিক ১৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯০ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিলেও একই সঙ্গে জানান, তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, তাদের একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য অনেক গতি তৈরি হয়েছে।’

সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টা তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে মঙ্গলবার ব্রেন্ট তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে দিনের লেনদেন শেষ করে। ৮ সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামল।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজার কিছুটা বেশি আশাবাদী।

তিনি বলেন, নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা আশার সৃষ্টি করেছে। ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিসহ কঠোর বক্তব্য অব্যাহত থাকলেও বাজার এখন আলোচনার সম্ভাবনাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

মঙ্গলবার সৌদি আরব লোহিত সাগরের দিকে পরিচালিত তার ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ড্রোন হামলার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছিল। হামলার জন্য ইরাকের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল দেশটি। পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পাঠানোও বন্ধ হয়ে যায়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরব পাইপলাইনটি ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল বা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানো সম্ভব।

এদিকে ইরাকও তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে। দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ মঙ্গলবার জানান, বর্তমানে ইরাক প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে। তুরস্কের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সা ও কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ইরাকের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ছিল যথাক্রমে দৈনিক ২৩ লাখ ও ২১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। জুলাইয়ের তুলনায় রপ্তানি বাড়লেও যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির তুলনায় তা এখনো কম।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৮ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় দেশটির সাপ্তাহিক তেল মজুতের সরকারি তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

 

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমল

Update Time : ০৬:২০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

উপসাগরীয় অঞ্চলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৯ দশমিক ১৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯০ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিলেও একই সঙ্গে জানান, তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, তাদের একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য অনেক গতি তৈরি হয়েছে।’

সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টা তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে মঙ্গলবার ব্রেন্ট তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে দিনের লেনদেন শেষ করে। ৮ সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামল।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজার কিছুটা বেশি আশাবাদী।

তিনি বলেন, নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা আশার সৃষ্টি করেছে। ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিসহ কঠোর বক্তব্য অব্যাহত থাকলেও বাজার এখন আলোচনার সম্ভাবনাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

মঙ্গলবার সৌদি আরব লোহিত সাগরের দিকে পরিচালিত তার ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ড্রোন হামলার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছিল। হামলার জন্য ইরাকের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল দেশটি। পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পাঠানোও বন্ধ হয়ে যায়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরব পাইপলাইনটি ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল বা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানো সম্ভব।

এদিকে ইরাকও তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে। দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ মঙ্গলবার জানান, বর্তমানে ইরাক প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে। তুরস্কের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সা ও কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ইরাকের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ছিল যথাক্রমে দৈনিক ২৩ লাখ ও ২১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। জুলাইয়ের তুলনায় রপ্তানি বাড়লেও যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির তুলনায় তা এখনো কম।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৮ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় দেশটির সাপ্তাহিক তেল মজুতের সরকারি তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে।