বগুড়ার শেরপুরে শিশু রাজু হোসেনকে (১১) নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ও ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মতে আসামির জবানবন্দী রেকর্ড এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের স্বীকৃতি স্বরুপ শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর জয়নুল আবেদীনকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অর্থ পুরস্কার প্রদান করেছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ।
প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গাবরগাড়ি রাস্তার পাশে ধান ক্ষেতের মধ্যে থেকে নিখোঁজের দু’দিন পর ওই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাজু শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে। এর আগে ৪ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ নিখোঁজ হয় শিশু রাজু।
নিখোঁজের পর তার বাবা আলম মিয়া শেরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ২২ ঘণ্টার অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ এলাকা থেকে প্রতিবেশী মোস্তাকিম নামের এক যুবককে আটক করে।
পরবর্তীতে মোস্তাকিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেরপুরের মির্জাপুর রানীরহাট মোড়ের ভাঙরি ও চোরাই ইজিবাইক কেনা-বেচার ব্যবসায়ী করিমকে গ্রেফতার করে তার হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা স্বীকার করে মোস্তাকিম রাজুকে ভুল বুঝিয়ে ইজিবাইকসহ মির্জাপুরে নিয়ে ইজিবাইকটি করিমের কাছে বিক্রি করে।
এরপর দোকানদার করিম মোস্তাকিমকে পরামর্শ দেয়, রাজু বিষয়টি প্রকাশ করলে তারা দুজনেই বিপদে পড়বে। পরবর্তীতে চুরির ঘটনা গোপন রাখা ও কোন সাক্ষী না রাখতে দুইজন মিলে রাজুকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গাবরগাড়ি এলাকা থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যা রহস্য উম্মোচন ও আসামিদের গ্রেফতার এবং মালামাল উদ্ধারে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো: আশিক সাঈদ শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদিনকে পুরস্কার প্রদান করেন।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 























