০৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে আপাতত নতুন দেশ নয়: পাকিস্তান

 

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে আপাতত নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। জোটের তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশ—পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক বর্তমানে চুক্তির কাঠামো আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ কথা জানিয়েছেন। ডনের খবর

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অন্য কোনো দেশকে যুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে সাজ্জাদ হায়দার বলেন, পাকিস্তান, সৌদি ও তুরস্ক নিয়মিত বৈঠক ও পরামর্শ করছে এবং নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে জোট সম্প্রসারণ বা নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বিবেচনায় নেই।

মুখপাত্র বলেন, প্রথমে তিন সদস্যকে চুক্তির আওতায় বিদ্যমান সহযোগিতা ও সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে। ভবিষ্যতে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োজন রয়েছে—এমন অন্য দেশগুলোর জন্য জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চলতি বছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতারা এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তিতে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি যৌথ নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ্যে আসেনি। তুরস্কও জানিয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিন দেশ এর কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ শুরু করেছে। ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে প্রথম স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার বিষয়ে একমত হয় তিন দেশ।

হুথি হামলার মধ্যেই কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

পাকিস্তানের নতুন বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে পড়েছে। হুথিরা সৌদি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালানোর পর রিয়াদ পাল্টা বিমান হামলা জোরদার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানও ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক করেছে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, সৌদি আরবের ওপর বড় ধরনের হামলা হলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে, চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে আপাতত নতুন দেশ নয়: পাকিস্তান

Update Time : ০৮:২৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে আপাতত নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। জোটের তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশ—পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক বর্তমানে চুক্তির কাঠামো আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ কথা জানিয়েছেন। ডনের খবর

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অন্য কোনো দেশকে যুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে সাজ্জাদ হায়দার বলেন, পাকিস্তান, সৌদি ও তুরস্ক নিয়মিত বৈঠক ও পরামর্শ করছে এবং নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে জোট সম্প্রসারণ বা নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বিবেচনায় নেই।

মুখপাত্র বলেন, প্রথমে তিন সদস্যকে চুক্তির আওতায় বিদ্যমান সহযোগিতা ও সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে। ভবিষ্যতে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োজন রয়েছে—এমন অন্য দেশগুলোর জন্য জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চলতি বছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতারা এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তিতে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি যৌথ নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ্যে আসেনি। তুরস্কও জানিয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিন দেশ এর কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ শুরু করেছে। ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে প্রথম স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার বিষয়ে একমত হয় তিন দেশ।

হুথি হামলার মধ্যেই কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

পাকিস্তানের নতুন বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে পড়েছে। হুথিরা সৌদি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালানোর পর রিয়াদ পাল্টা বিমান হামলা জোরদার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানও ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক করেছে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, সৌদি আরবের ওপর বড় ধরনের হামলা হলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে, চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।