সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিনটি সেচ মটরের ট্রান্সফরমার, একটি মোটরসাইকেল ও চারটি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি গত এক মাসে বসতবাড়িতে চুরি, হামলা, লুটপাট ও নির্যাতনের একাধিক অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের রেজা হোসেন, কুরচা গ্রামের রাজিব হোসেন ও বিনোদবাড়ি গ্রামের আক্তার হোসেনের সেচ মটরের তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। রাতের কোনো একসময় সংঘবদ্ধ চোরের দল এসব ট্রান্সফরমার নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়গঞ্জ পৌরসভার মহেশপুর এলাকায় জালালের প্রসেস মিলসংলগ্ন মসজিদের সামনে থেকে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. রুবেল হোসেনের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে একই রাতে উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের চকমোহনবাড়ি গ্রামে আব্দুল হান্নান খানের গোয়ালঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪ টার মধ্যে গোয়াল ঘরের তালা ও শিকল কেটে চারটি গরু নিয়ে যায় চোরেরা।
ভুক্তভোগী আব্দুল হান্নান খান (৬০) বলেন, রাত ২টার দিকে তিনি গোয়ালঘর তালাবদ্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে ফজরের নামাজের সময় গোয়ালঘরে গিয়ে দরজা খোলা এবং শিকল কাটা দেখতে পান। পরে ভেতরে থাকা চারটি গরু দেখতে না পেয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন। তাঁর দাবি, চুরি যাওয়া চারটি গরুর আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
শুধু চুরিই নয়, গত এক মাসে রায়গঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় হামলা, লুটপাট ও নির্যাতনের একাধিক অভিযোগও সামনে এসেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলার বন্ধিহার গ্রামে পাওনা ৭০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবকসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে মারধর, আটকে রাখা ও বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মো. মামুন হাসান (২৩) পাঁচজনের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একের পর এক চুরি, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে শঙ্কা বেড়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাতে পুলিশের টহল বাড়ানো, চুরি ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি চালানো এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 
























