০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ধামরাইয়ে বিষমুক্ত বেগুন চাষে সফল শিক্ষক হান্নান

 

শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক ও নিরাপদ কৃষিতে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের শিক্ষক হান্নান হোসেন। ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে মালচিং পদ্ধতি, সেক্স ফেরোমন ও ইয়েলো ট্র্যাপের মাধ্যমে তিন বিঘা জমিতে বিষমুক্ত বেগুন চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন তিনি।

ক্লাস্টার ডেমোনস্ট্রেশন (GAP)-এর আওতায় উন্নত জাতের ‘ফিল্ড লিভার’ বেগুন চাষ করছেন শিক্ষক হান্নান। নিরাপদ ও কীটনাশকমুক্ত হওয়ায় বাজারে তাঁর উৎপাদিত বেগুনের চাহিদাও রয়েছে বেশ। বর্তমানে মাঠ থেকেই প্রতি কেজি বেগুন ১১০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করছেন তিনি। চলতি মৌসুমে তাঁর তিন বিঘার ক্ষেত থেকে অন্তত চার লাখ টাকার বেগুন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চকচকে প্লাস্টিক মালচিং পেপারে ঢাকা সারি সারি বেগুনগাছ। পুরো ক্ষেতজুড়ে বসানো হয়েছে পরিবেশবান্ধব সেক্স ফেরোমন ও হলুদ রঙের ইয়েলো ট্র্যাপ। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ঢাকার ধামরাই উপজেলার স্থানীয় আব্বাস উদ্দিন স্কুলের গণিত শিক্ষক হান্নান হোসেন। কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই কৃষির সঙ্গে তাঁর পরিচয়। বাবার সঙ্গে মাঠে গিয়ে ফসলের পরিচর্যা করতে করতেই কৃষির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। সেই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক ও নিরাপদ কৃষিতে যুক্ত হয়েছেন তিনি।

এবার তিন বিঘা জমিতে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেছেন হান্নান। জমি প্রস্তুত, মালচিং পেপার, বীজ ও ট্র্যাপসহ এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কীটনাশকমুক্ত হওয়ায় উৎপাদিত বেগুনের বাজারে চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।

শিক্ষক হান্নান হোসেনের এই উদ্যোগে শুধু তাঁর নিজের আয়ই বাড়ছে না, স্থানীয় কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তাঁর বেগুনের ক্ষেতে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়জন শ্রমিক কাজ করেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের এ সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকরাও এখন নিরাপদ ও কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের লাভবান হওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। হান্নান হোসেনের ক্ষেতটিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ নিয়মিত কারিগরি ও মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে।

ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘হান্নান আধুনিক কৃষির রোল মডেল। তাঁর মতো যুবকেরা কৃষিতে যুক্ত হওয়ায় ধামরাইয়ের কৃষি উৎপাদন বাড়ছে। কৃষির আধুনিকায়নে উপজেলা কৃষি বিভাগ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার আলো ছড়ানোর পাশাপাশি মাঠের ফসলে হান্নান হোসেনের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও মেধাকে কাজে লাগাতে পারলে কৃষিতেও সফল হওয়া সম্ভব।’

শিক্ষকতার মতো মহান পেশার পাশাপাশি কৃষিতে এমন সফল উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছেন হান্নান হোসেন। তাঁর সফলতা দেখে অন্য কৃষকরাও নিরাপদ সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আধুনিক ও বিষমুক্ত কৃষির এমন উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়লে একদিকে যেমন নিরাপদ খাদ্যের জোগান বাড়বে, অন্যদিকে কৃষকেরাও লাভবান হবেন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

ধামরাইয়ে বিষমুক্ত বেগুন চাষে সফল শিক্ষক হান্নান

Update Time : ০৮:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

 

শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক ও নিরাপদ কৃষিতে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের শিক্ষক হান্নান হোসেন। ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে মালচিং পদ্ধতি, সেক্স ফেরোমন ও ইয়েলো ট্র্যাপের মাধ্যমে তিন বিঘা জমিতে বিষমুক্ত বেগুন চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন তিনি।

ক্লাস্টার ডেমোনস্ট্রেশন (GAP)-এর আওতায় উন্নত জাতের ‘ফিল্ড লিভার’ বেগুন চাষ করছেন শিক্ষক হান্নান। নিরাপদ ও কীটনাশকমুক্ত হওয়ায় বাজারে তাঁর উৎপাদিত বেগুনের চাহিদাও রয়েছে বেশ। বর্তমানে মাঠ থেকেই প্রতি কেজি বেগুন ১১০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করছেন তিনি। চলতি মৌসুমে তাঁর তিন বিঘার ক্ষেত থেকে অন্তত চার লাখ টাকার বেগুন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চকচকে প্লাস্টিক মালচিং পেপারে ঢাকা সারি সারি বেগুনগাছ। পুরো ক্ষেতজুড়ে বসানো হয়েছে পরিবেশবান্ধব সেক্স ফেরোমন ও হলুদ রঙের ইয়েলো ট্র্যাপ। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ঢাকার ধামরাই উপজেলার স্থানীয় আব্বাস উদ্দিন স্কুলের গণিত শিক্ষক হান্নান হোসেন। কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই কৃষির সঙ্গে তাঁর পরিচয়। বাবার সঙ্গে মাঠে গিয়ে ফসলের পরিচর্যা করতে করতেই কৃষির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। সেই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক ও নিরাপদ কৃষিতে যুক্ত হয়েছেন তিনি।

এবার তিন বিঘা জমিতে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেছেন হান্নান। জমি প্রস্তুত, মালচিং পেপার, বীজ ও ট্র্যাপসহ এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কীটনাশকমুক্ত হওয়ায় উৎপাদিত বেগুনের বাজারে চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।

শিক্ষক হান্নান হোসেনের এই উদ্যোগে শুধু তাঁর নিজের আয়ই বাড়ছে না, স্থানীয় কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তাঁর বেগুনের ক্ষেতে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়জন শ্রমিক কাজ করেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের এ সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকরাও এখন নিরাপদ ও কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের লাভবান হওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। হান্নান হোসেনের ক্ষেতটিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ নিয়মিত কারিগরি ও মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে।

ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘হান্নান আধুনিক কৃষির রোল মডেল। তাঁর মতো যুবকেরা কৃষিতে যুক্ত হওয়ায় ধামরাইয়ের কৃষি উৎপাদন বাড়ছে। কৃষির আধুনিকায়নে উপজেলা কৃষি বিভাগ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার আলো ছড়ানোর পাশাপাশি মাঠের ফসলে হান্নান হোসেনের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও মেধাকে কাজে লাগাতে পারলে কৃষিতেও সফল হওয়া সম্ভব।’

শিক্ষকতার মতো মহান পেশার পাশাপাশি কৃষিতে এমন সফল উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছেন হান্নান হোসেন। তাঁর সফলতা দেখে অন্য কৃষকরাও নিরাপদ সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আধুনিক ও বিষমুক্ত কৃষির এমন উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়লে একদিকে যেমন নিরাপদ খাদ্যের জোগান বাড়বে, অন্যদিকে কৃষকেরাও লাভবান হবেন।