০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

সারিয়াকান্দিতে দৃশ্যমান হচ্ছে নৌবন্দর উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী

 

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বিআইডব্লিউটিএর একটি পল্টুন সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাটে এসেছে। সেখানে সারিয়াকান্দি নৌবন্দর কথাটি অঙ্কিত করা হয়েছে। এতে সারিয়াকান্দি নৌবন্দর দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলাকে নৌবন্দর ঘোষনা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এখন প্রাতিষ্ঠানিক কাজগুলো চলমান রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই বগুড়াসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুট ব্যবহার করে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন।

এ নৌপথ দিয়ে জামালপুর হয়ে ঢাকার দূরত্বও কম। তাই সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুট ব্যবহার করে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী বগুড়া এবং জামালপুর জেলায় যাতায়াত করেন। তারা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকা দিয়ে উত্তাল যমুনা পাড়ি দেন।

এসব নৌকাগুলোর যাত্রী ছাউনি না থাকায় যাত্রীরা প্রখর রোদে পুড়ে বা বৃষ্টিতে ভিজে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে সবসময় যাতায়াত করেন। যাত্রীদের এসব কষ্টের কথা চিন্তা করে গত কয়েক বছর আগে এ নৌরুটে সি-ট্রাক সার্ভিস চালু করেন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যমুনার নাব্য সংকটে এবং সি-ট্রাকের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অব্যাহত লোকসানে বন্ধ হয়ে যায় এ সার্ভিসটি।

সারিয়াকান্দিতে কয়েক বছর ধরেই পলিমাটি জমে যমুনা নদীর অববাহিকায় বিশালাকার কৃষি জমি সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে প্রতিবছর প্রচুর পরিমানে ফসল ফলে। পরিবহন ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এসব ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে প্রতিবছরই বঞ্চিত হন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাত করে ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে এবং সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুটের লাখো যাত্রীর সুবিধার্থে সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর চান এলাকাবাসী। যা তাদের বহুদিনের স্বপ্ন।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন আগেই বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি এবং ধুনট উপজেলাকে নৌবন্দর ঘোষনা করে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। গেজেট অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের দিঘাপাড়া নৌঘাট, কালিতলা নৌঘাট, জামথল নৌঘাট, মথুরাপাড়া নৌঘাট, মূলবাড়ী নৌঘাট, শোনপচা নৌঘাট এবং ধুনট উপজেলার চন্দনবাইশা ও শহরাবাড়ী নৌঘাট নৌবন্দরের আওতাভুক্ত।

গত কয়েকদিন আগে সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের একটি পল্টুুন সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাটে রাখা হয়েছে। এতে সারিয়াকান্দি নৌবন্দর অঙ্কিত করা হয়েছে। ফলে সারিয়াকান্দি নৌবন্দর দৃশ্যমান হওয়াতে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন নদীপাড়ের মানুষসহ সারিয়াকান্দি উপজেলার এলাকাবাসী। এখন নদীবন্দরের প্রাতিষ্ঠানিক কাজগুলো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এটি বাস্তবায়ন হলে নদী পথে বগুড়া টু জামালপুরের দূরত্ব কমবে বহুগুণ।

বগুড়া জেলা থেকে জামালপুর জেলার সড়কপথের দূরত্ব ১৭৩ কিলোমিটার। যা সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা সেতু হয়ে ঘুরে যেতে হবে। অপরদিকে বগুড়া থেকে সারিয়াকান্দি নৌঘাটের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার, সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাট থেকে মাদারগঞ্জের জামথল ঘাটের দূরত্ব ৪.৬ কিলোমিটার, জামথল ঘাট থেকে জামালপুরের দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। অর্থাৎ নৌপথে বগুড়া থেকে জামালপুরের দূরত্ব মাত্র ৫৯ কিলোমিটার। অর্থাৎ নৌপথে দূরত্ব কমছে ১১৪ কিলোমিটার।

নৌবন্দর হওয়ায় মানুষের সময়ের সাথে অর্থেরও সাশ্রয় হবে। দুই জেলার মধ্যে কৃষকের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের লেনদেন ত্বরান্বিত হবে। বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে। এলাকার অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, সারিয়াকান্দি নৌবন্দরের প্রাতিষ্ঠানিক কাজগুলো এখন চলমান রয়েছে। নৌবন্দরের কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। খুব শীঘ্রই বড়বড় ভেপুওয়ালা জাহাজ এবং মালবাহী ওয়াগন ভিড়বে সারিয়াকান্দির নৌঘাটে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

সারিয়াকান্দিতে দৃশ্যমান হচ্ছে নৌবন্দর উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী

Update Time : ০৭:৪৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

 

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বিআইডব্লিউটিএর একটি পল্টুন সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাটে এসেছে। সেখানে সারিয়াকান্দি নৌবন্দর কথাটি অঙ্কিত করা হয়েছে। এতে সারিয়াকান্দি নৌবন্দর দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলাকে নৌবন্দর ঘোষনা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এখন প্রাতিষ্ঠানিক কাজগুলো চলমান রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই বগুড়াসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুট ব্যবহার করে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন।

এ নৌপথ দিয়ে জামালপুর হয়ে ঢাকার দূরত্বও কম। তাই সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুট ব্যবহার করে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী বগুড়া এবং জামালপুর জেলায় যাতায়াত করেন। তারা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকা দিয়ে উত্তাল যমুনা পাড়ি দেন।

এসব নৌকাগুলোর যাত্রী ছাউনি না থাকায় যাত্রীরা প্রখর রোদে পুড়ে বা বৃষ্টিতে ভিজে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে সবসময় যাতায়াত করেন। যাত্রীদের এসব কষ্টের কথা চিন্তা করে গত কয়েক বছর আগে এ নৌরুটে সি-ট্রাক সার্ভিস চালু করেন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যমুনার নাব্য সংকটে এবং সি-ট্রাকের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অব্যাহত লোকসানে বন্ধ হয়ে যায় এ সার্ভিসটি।

সারিয়াকান্দিতে কয়েক বছর ধরেই পলিমাটি জমে যমুনা নদীর অববাহিকায় বিশালাকার কৃষি জমি সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে প্রতিবছর প্রচুর পরিমানে ফসল ফলে। পরিবহন ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এসব ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে প্রতিবছরই বঞ্চিত হন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাত করে ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে এবং সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুটের লাখো যাত্রীর সুবিধার্থে সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর চান এলাকাবাসী। যা তাদের বহুদিনের স্বপ্ন।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন আগেই বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি এবং ধুনট উপজেলাকে নৌবন্দর ঘোষনা করে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। গেজেট অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের দিঘাপাড়া নৌঘাট, কালিতলা নৌঘাট, জামথল নৌঘাট, মথুরাপাড়া নৌঘাট, মূলবাড়ী নৌঘাট, শোনপচা নৌঘাট এবং ধুনট উপজেলার চন্দনবাইশা ও শহরাবাড়ী নৌঘাট নৌবন্দরের আওতাভুক্ত।

গত কয়েকদিন আগে সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের একটি পল্টুুন সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাটে রাখা হয়েছে। এতে সারিয়াকান্দি নৌবন্দর অঙ্কিত করা হয়েছে। ফলে সারিয়াকান্দি নৌবন্দর দৃশ্যমান হওয়াতে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন নদীপাড়ের মানুষসহ সারিয়াকান্দি উপজেলার এলাকাবাসী। এখন নদীবন্দরের প্রাতিষ্ঠানিক কাজগুলো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এটি বাস্তবায়ন হলে নদী পথে বগুড়া টু জামালপুরের দূরত্ব কমবে বহুগুণ।

বগুড়া জেলা থেকে জামালপুর জেলার সড়কপথের দূরত্ব ১৭৩ কিলোমিটার। যা সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা সেতু হয়ে ঘুরে যেতে হবে। অপরদিকে বগুড়া থেকে সারিয়াকান্দি নৌঘাটের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার, সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাট থেকে মাদারগঞ্জের জামথল ঘাটের দূরত্ব ৪.৬ কিলোমিটার, জামথল ঘাট থেকে জামালপুরের দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। অর্থাৎ নৌপথে বগুড়া থেকে জামালপুরের দূরত্ব মাত্র ৫৯ কিলোমিটার। অর্থাৎ নৌপথে দূরত্ব কমছে ১১৪ কিলোমিটার।

নৌবন্দর হওয়ায় মানুষের সময়ের সাথে অর্থেরও সাশ্রয় হবে। দুই জেলার মধ্যে কৃষকের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের লেনদেন ত্বরান্বিত হবে। বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে। এলাকার অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, সারিয়াকান্দি নৌবন্দরের প্রাতিষ্ঠানিক কাজগুলো এখন চলমান রয়েছে। নৌবন্দরের কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। খুব শীঘ্রই বড়বড় ভেপুওয়ালা জাহাজ এবং মালবাহী ওয়াগন ভিড়বে সারিয়াকান্দির নৌঘাটে।