০৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

অবশেষে বকেয়া টাকার মুখ দেখলেন ৭০ হাজার শিক্ষক

 

দীর্ঘ চার বছরের অনিশ্চয়তা অবসানের পর অবশেষে নিজেদের জমানো টাকার একটি অংশ হাতে পেলেন দেশের ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকা।

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রতীকী চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এখন থেকে আর কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দাপ্তরিক জটিলতা ছাড়াই সরাসরি ব্যাংক হিসাবে শিক্ষকদের এই প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে যাবে।

শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্টের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানটি কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী। ২০২২ সালের পর দীর্ঘ চার বছর ধরে আটকে থাকা অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।”

শিক্ষকদের অবদানের কথা পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “শিক্ষক সমাজ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো-কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন। সেই শিক্ষকদেরই যদি ঘুষ দিয়ে নিজেদের টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, জাতি হিসেবে আমাদের ‘দীনতা-হীনতা’ প্রকাশ করে।”

গত সরকারের দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি খাত থেকে লুটপাট করেছিল। সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থে গঠিত দুটি তহবিলও রেহাই পায়নি।”

তিনি জানান, জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ তৈরির জন্য শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করার মাধ্যমে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন, “যাতায়াত ও মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে না। আগামী দিনগুলোতে যথাসময়ে অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য টাকা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই তাদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে, ইনশাআল্লাহ।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কল্যাণে তার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি এসব তহবিলে সরকারি ফান্ড থেকে প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে এর সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেন।” একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

পরিশেষে দেশের আলো ছড়ানো এই গুণীজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকতা হলো একমাত্র পেশা, যা অন্য সব পেশার সৃষ্টি করে। প্রচলিত নিয়মে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নিলেও শিক্ষক হিসেবে তাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। তারা এখনো সমাজের শিক্ষক।”

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা সমাজে নৈতিকতার আলোকবর্তিকা হয়ে নিজেদের স্থান ধরে রাখবেন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

অস্ট্রেলিয়াকে টেষ্টে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস

অবশেষে বকেয়া টাকার মুখ দেখলেন ৭০ হাজার শিক্ষক

Update Time : ০৭:৫৭:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

 

দীর্ঘ চার বছরের অনিশ্চয়তা অবসানের পর অবশেষে নিজেদের জমানো টাকার একটি অংশ হাতে পেলেন দেশের ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকা।

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রতীকী চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এখন থেকে আর কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দাপ্তরিক জটিলতা ছাড়াই সরাসরি ব্যাংক হিসাবে শিক্ষকদের এই প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে যাবে।

শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্টের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানটি কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী। ২০২২ সালের পর দীর্ঘ চার বছর ধরে আটকে থাকা অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।”

শিক্ষকদের অবদানের কথা পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “শিক্ষক সমাজ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো-কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন। সেই শিক্ষকদেরই যদি ঘুষ দিয়ে নিজেদের টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, জাতি হিসেবে আমাদের ‘দীনতা-হীনতা’ প্রকাশ করে।”

গত সরকারের দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি খাত থেকে লুটপাট করেছিল। সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থে গঠিত দুটি তহবিলও রেহাই পায়নি।”

তিনি জানান, জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ তৈরির জন্য শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করার মাধ্যমে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন, “যাতায়াত ও মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে না। আগামী দিনগুলোতে যথাসময়ে অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য টাকা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই তাদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে, ইনশাআল্লাহ।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কল্যাণে তার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি এসব তহবিলে সরকারি ফান্ড থেকে প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে এর সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেন।” একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

পরিশেষে দেশের আলো ছড়ানো এই গুণীজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকতা হলো একমাত্র পেশা, যা অন্য সব পেশার সৃষ্টি করে। প্রচলিত নিয়মে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নিলেও শিক্ষক হিসেবে তাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। তারা এখনো সমাজের শিক্ষক।”

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা সমাজে নৈতিকতার আলোকবর্তিকা হয়ে নিজেদের স্থান ধরে রাখবেন।