০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

শেরপুরে চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজার বসতঘর ভেঙে ফেলার অভিযোগ

 

বগুড়ার শেরপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন ভাতিজার বসতঘরের টিনের ছাপরা জোরপূর্বক ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে চাচা আলী আশরাফের (৭০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের দড়িহাঁসড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আলী আশরাফ ওই গ্রামের মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরটির টিন ও অন্যান্য অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। শুধু ঘরের কয়েকটি খুঁটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলী আশরাফ বলেন, সার্ভেয়ার দিয়ে জায়গা মাপজোখ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘরগুলো না সরানোর কারণে মৃত মোজাম্মেল হকের স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি ঘরটি ভেঙেছেন।

অন্যদিকে, মৃত মোজাম্মেল হকের স্ত্রী মোছা. বিউটি খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তাঁর চাচা শ্বশুর জোরপূর্বক ঘরটি ভেঙে ফেলেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে মো. মিজানুর রহমান মজনু (৪২), পিতা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, তাঁর চাচা প্রায় ৪৫ বছর ধরে পাশের একটি পুকুর ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ পুকুরের পরিবর্তে তাঁদের বাড়ির জায়গায় জোরপূর্বক গাছ লাগিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ জমি নিয়ে ২০২২ সালে একটি বণ্টন মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ শতক জমির অনলাইন খাজনা-খারিজও তাঁদের নামে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মজনু আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও তাঁর ভাইকে লাথি মেরে পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন আলী আশরাফ। অভিযুক্তের ভয়ে গ্রামের মাতবররাও এ বিষয়ে কথা বলার সাহস পান না বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন ও নুরুল ইসলাম জানান, ঘর ভাঙার বিষয়ে গ্রামে কোনো সালিশি বৈঠক হয়নি কিংবা এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত আলী আশরাফ বাংলাদেশ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজার বসতঘর ভেঙে ফেলার অভিযোগ

Update Time : ০৬:৩৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

 

বগুড়ার শেরপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন ভাতিজার বসতঘরের টিনের ছাপরা জোরপূর্বক ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে চাচা আলী আশরাফের (৭০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের দড়িহাঁসড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আলী আশরাফ ওই গ্রামের মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরটির টিন ও অন্যান্য অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। শুধু ঘরের কয়েকটি খুঁটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলী আশরাফ বলেন, সার্ভেয়ার দিয়ে জায়গা মাপজোখ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘরগুলো না সরানোর কারণে মৃত মোজাম্মেল হকের স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি ঘরটি ভেঙেছেন।

অন্যদিকে, মৃত মোজাম্মেল হকের স্ত্রী মোছা. বিউটি খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তাঁর চাচা শ্বশুর জোরপূর্বক ঘরটি ভেঙে ফেলেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে মো. মিজানুর রহমান মজনু (৪২), পিতা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, তাঁর চাচা প্রায় ৪৫ বছর ধরে পাশের একটি পুকুর ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ পুকুরের পরিবর্তে তাঁদের বাড়ির জায়গায় জোরপূর্বক গাছ লাগিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ জমি নিয়ে ২০২২ সালে একটি বণ্টন মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ শতক জমির অনলাইন খাজনা-খারিজও তাঁদের নামে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মজনু আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও তাঁর ভাইকে লাথি মেরে পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন আলী আশরাফ। অভিযুক্তের ভয়ে গ্রামের মাতবররাও এ বিষয়ে কথা বলার সাহস পান না বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন ও নুরুল ইসলাম জানান, ঘর ভাঙার বিষয়ে গ্রামে কোনো সালিশি বৈঠক হয়নি কিংবা এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত আলী আশরাফ বাংলাদেশ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।