০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

সারিয়াকান্দিতে ২৮ টি মন্দিরে এবার দুর্গাপূজার আয়ােজন

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে এ বছর ২৮ টি মন্দিরে দুর্গাপূজা হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৬ সেট প্রতিমা বানাচ্ছেন নয়ন রাজভর। প্রতিমা তৈরি করেই সংসার চালান সারিয়াকান্দির প্রতিমা কারিগর নয়ন রাজভর (৩৯)। তিনি উপজেলার পৌর এলাকার সারিয়াকান্দি বাজারের রঞ্জন রাজভরের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রতিমা তৈরি করেন। নয়ন উপজেলার পৌর এলাকার শ্রী শ্রী যুগোল কিশোর মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করেন। কাকডাকা ভোর থেকেই শুরু হয় নয়নের কর্মব্যস্ততা। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজে সারাদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর তিনি ৮ টি দূর্গা প্রতিমা সেট গড়েছিলেন। সবগুলো বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। এ প্রতিমা বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের যাবতীয় খরচ মিটিয়েছেন। এ বছর তিনি ৬ টি প্রতিমা সেট গড়ার অর্ডার পেয়েছেন। প্রতিটি প্রতিমা সেট তৈরি করতে কাঠ, বাঁশ, খড় এবং মাটি বাবদ নয়নের ১০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। যা তিনি ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। প্রতিমা তৈরিতে মাটির কাজ প্রায় শেষের মধ্যে। কদিনের মধ্যেই তিনি রং তুলির কাজ শুরু করবেন।

গত বছর এ উপজেলায় ২৪ টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছর মন্দিরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে পৌর এলাকায় ৫ টি, ফুলবাড়ি ইউনিয়নে ৭ টি, নারচী ইউনিয়নে ৩ টি, কুতুবপুর ইউনিয়নে ৩ টি, কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নে ২ টি, কামালপুর ইউনিয়নে ৩ টি, চন্দনবাইশা ইউনিয়নে ১ টি, হাটশেরপুর ইউনিয়নে ৩ টি এবং চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নে ১ টি। এদিকে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে নতুন কাপড় কেনা, মোয়া, মুড়ি, মুরকি প্রভূতি নানা ধরনের মিষ্টি মিঠাই তৈরি করতে উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

প্রতিমার কারিগর নয়ন রাজভর জানান, তিনি প্রতিমা ভাংচুরের শংকায় রাত জেগে পাহারা দেন। কারণ প্রতিমা বিক্রির টাকা দিয়েই তার সংসার চলে। পৌর এলাকার বাবু অরুণাংশু কুমার সাহা বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে আমাদের হিন্দু পাড়ায় ধুম পরে গেছে। এ বছর আমাদের দুর্গা মা ঘোড়ায় চরে মর্তে আগমন করবেন এবং যাবেন নৌকায় চরে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষ যেনো সুখে থাকে এবং শান্তিতে থাকে মায়ের কাছে এবারের পূজায় আমাদের একটাই প্রার্থনা থাকবে। এ বিষয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করছি।

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের উপজেলায় দুর্গা ভাংচুরের কোনও সম্ভাবনা নেই। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উৎসবমুখর করতে আমাদের থানার পুলিশ নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিটি মন্ডপে আনসার সদস্য রাখা হবে, পুলিশ সদস্য রাখা হবে এবং মন্ডপে মন্ডপে সি সি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া পুলিশের জরুরি টহল টিম সব সময় কাজ করবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

সোনাতলার খরস্রোতা ‍সুখদহ নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে

সারিয়াকান্দিতে ২৮ টি মন্দিরে এবার দুর্গাপূজার আয়ােজন

Update Time : ০৬:৫৫:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে এ বছর ২৮ টি মন্দিরে দুর্গাপূজা হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৬ সেট প্রতিমা বানাচ্ছেন নয়ন রাজভর। প্রতিমা তৈরি করেই সংসার চালান সারিয়াকান্দির প্রতিমা কারিগর নয়ন রাজভর (৩৯)। তিনি উপজেলার পৌর এলাকার সারিয়াকান্দি বাজারের রঞ্জন রাজভরের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রতিমা তৈরি করেন। নয়ন উপজেলার পৌর এলাকার শ্রী শ্রী যুগোল কিশোর মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করেন। কাকডাকা ভোর থেকেই শুরু হয় নয়নের কর্মব্যস্ততা। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজে সারাদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর তিনি ৮ টি দূর্গা প্রতিমা সেট গড়েছিলেন। সবগুলো বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। এ প্রতিমা বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের যাবতীয় খরচ মিটিয়েছেন। এ বছর তিনি ৬ টি প্রতিমা সেট গড়ার অর্ডার পেয়েছেন। প্রতিটি প্রতিমা সেট তৈরি করতে কাঠ, বাঁশ, খড় এবং মাটি বাবদ নয়নের ১০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। যা তিনি ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। প্রতিমা তৈরিতে মাটির কাজ প্রায় শেষের মধ্যে। কদিনের মধ্যেই তিনি রং তুলির কাজ শুরু করবেন।

গত বছর এ উপজেলায় ২৪ টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছর মন্দিরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে পৌর এলাকায় ৫ টি, ফুলবাড়ি ইউনিয়নে ৭ টি, নারচী ইউনিয়নে ৩ টি, কুতুবপুর ইউনিয়নে ৩ টি, কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নে ২ টি, কামালপুর ইউনিয়নে ৩ টি, চন্দনবাইশা ইউনিয়নে ১ টি, হাটশেরপুর ইউনিয়নে ৩ টি এবং চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নে ১ টি। এদিকে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে নতুন কাপড় কেনা, মোয়া, মুড়ি, মুরকি প্রভূতি নানা ধরনের মিষ্টি মিঠাই তৈরি করতে উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

প্রতিমার কারিগর নয়ন রাজভর জানান, তিনি প্রতিমা ভাংচুরের শংকায় রাত জেগে পাহারা দেন। কারণ প্রতিমা বিক্রির টাকা দিয়েই তার সংসার চলে। পৌর এলাকার বাবু অরুণাংশু কুমার সাহা বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে আমাদের হিন্দু পাড়ায় ধুম পরে গেছে। এ বছর আমাদের দুর্গা মা ঘোড়ায় চরে মর্তে আগমন করবেন এবং যাবেন নৌকায় চরে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষ যেনো সুখে থাকে এবং শান্তিতে থাকে মায়ের কাছে এবারের পূজায় আমাদের একটাই প্রার্থনা থাকবে। এ বিষয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করছি।

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের উপজেলায় দুর্গা ভাংচুরের কোনও সম্ভাবনা নেই। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উৎসবমুখর করতে আমাদের থানার পুলিশ নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিটি মন্ডপে আনসার সদস্য রাখা হবে, পুলিশ সদস্য রাখা হবে এবং মন্ডপে মন্ডপে সি সি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া পুলিশের জরুরি টহল টিম সব সময় কাজ করবে।