০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিরপুরে হামলা-লুটপাটে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জামায়াতের

 

মিরপুরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ দাবি জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
ড. রেজাউল করিম বলেন, মিরপুর-১ নম্বরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর পরপরই জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে গোলাগুলি, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা সরেজমিনে দেখতে তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। তবে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
‘দোষী যে-ই হোক এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই’—বলেন ড. রেজাউল করিম।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর নতুন বাংলাদেশে লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলদারি, বোমাবাজি ও গোলাগুলির রাজনীতি বন্ধ হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও এ ধরনের ঘটনা এখনো ঘটছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. রেজাউল করিমের দাবি, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে তরুণ ও মেধাবীরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও দেশে নিজেদের মেধা বিনিয়োগের পরিবর্তে বিদেশমুখী হতে পারেন। তাই হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে প্রবেশ করতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, হামলার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় তারা আপাতত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন না করার অনুরোধ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ক্যান্টনমেন্ট প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার মধ্যে পড়ে। এমন এলাকায় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় থাকলে এবং চাঁদাবাজি ও লুটপাটের শিকার হলে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. রেজাউল করিম বলেন, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে’—বলেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।

ড. রেজাউল করিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়; অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে। জনগণের অধিকার ও ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দলটি কাজ করবে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, গবেষক ও টকশো ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হক, মহানগরী যুব বিভাগের সেক্রেটারি ডা. মোস্তফা পারভেজ ফয়সালসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার এসব তথ্য জানান।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনাতলায় বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও উচ্ছেদের হুমকি

মিরপুরে হামলা-লুটপাটে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জামায়াতের

Update Time : ০৬:৩০:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মিরপুরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ দাবি জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
ড. রেজাউল করিম বলেন, মিরপুর-১ নম্বরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর পরপরই জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে গোলাগুলি, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা সরেজমিনে দেখতে তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। তবে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
‘দোষী যে-ই হোক এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই’—বলেন ড. রেজাউল করিম।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর নতুন বাংলাদেশে লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলদারি, বোমাবাজি ও গোলাগুলির রাজনীতি বন্ধ হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও এ ধরনের ঘটনা এখনো ঘটছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. রেজাউল করিমের দাবি, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে তরুণ ও মেধাবীরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও দেশে নিজেদের মেধা বিনিয়োগের পরিবর্তে বিদেশমুখী হতে পারেন। তাই হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে প্রবেশ করতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, হামলার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় তারা আপাতত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন না করার অনুরোধ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ক্যান্টনমেন্ট প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার মধ্যে পড়ে। এমন এলাকায় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় থাকলে এবং চাঁদাবাজি ও লুটপাটের শিকার হলে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. রেজাউল করিম বলেন, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে’—বলেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।

ড. রেজাউল করিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়; অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে। জনগণের অধিকার ও ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দলটি কাজ করবে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, গবেষক ও টকশো ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হক, মহানগরী যুব বিভাগের সেক্রেটারি ডা. মোস্তফা পারভেজ ফয়সালসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার এসব তথ্য জানান।