রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেও অনেক সময়ে শরীরে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। দীর্ঘদিন কোলেস্টেরল বেশি থাকলে ধমনিতে চর্বি জাতীয় পদার্থ জমে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি করতে পারে। এতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
লক্ষণ
কোলেস্টেরল বেশির ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট উপসর্গ থাকে না। অনেকে রক্ত পরীক্ষা করার পর জানতে পারেন যে, তাদের কোলেস্টেরল বেড়েছে। তবে কোলেস্টেরলের কারণে হৃদরোগ বা ধমনিতে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই শুধু লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
কেন বাড়ে কোলেস্টেরল
অস্বাস্থ্যকর খাবার, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধুমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। এছাড়া ডায়বেটিস, থাইরয়েড ও বংশগত কারণ এবং কিছু ওষুধের প্রভাবেও কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে।
কোলেস্টেরল বেশি হলে কী হয়
কোলেস্টেরলের প্রধান দুই ধরন হলো এলডিএল ও এইচডিএল। এলডিএল কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়। এর মাত্রা বেশি হলে ধমনিতে প্লাক জমতে পারে। অন্যদিকে এইচডিএল ভালো কোলেস্টেরল, যা রক্ত থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সরাতে সাহায্য করে।
দীর্ঘদিন এলডিএল বেশি থাকলে ধমনি সরু ও শক্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে হৃদরোগ হার্ট অ্যাটাক,স্ট্রোক ও পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ে। গুরুত্বর ক্ষেত্রে রক্তণালীতে বাধা তৈরি হয়ে বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত চলাচল ব্যাহত হতে পারে।
প্রতিরোধে করণীয়
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা জরুরি। খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য,ডাল, বাদাম, বীজ রাখা যেতে পারে। ওটস মটরশুঁটি, মসুর ডালের মতো দ্রবণীয় আঁশসমৃদ্ধ খাবার এলডিএল কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ভাজাপোড়া অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ট্রান্স ফ্যাট কমাতে হবে। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল, সাতাঁর বা অন্যান্য শারীরিক ব্যায়ামও উপকারী। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং ধুমপান থেকে বিরত থাকা জরুরি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
কোলেস্টেরল বেশি থাকার সন্দেহ হলে বা পরীক্ষায় মাত্রা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। সময়মতো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ রাখলে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 
























