০৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

ধুনটে কৃষকের ক্ষেতের বেগুন গাছ পাতা হলুদ রোগে মারা যাচ্ছে

 

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চরে বেগুন চাষ করেছিলেন কৃষকেরা। ক্ষেতজুড়ে সবুজের সমারোহ, গাছে গাছে ফুল আর ফল দেখে ভালো ফলনের আশায় ছিলেন । কিন্তু সেই স্বপ্নে এখন দুশ্চিন্তার ছায়া। পাতা হলুদ হয়ে একে একে মরে যাচ্ছে বেগুন গাছ। রোগ দমনে বারবার ওষুধ প্রয়োগ করেও মিলছে না প্রতিকার। এতে উৎপাদন খরচও তুলতে না পারার শঙ্কায় পড়েছেন বেগুন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ করেছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে রয়েছে গ্রিনবল, ভেনজুরা, গ্রিনগ্লোব ও ইরি জাতের বেগুন। অধিকাংশ ক্ষেতেই গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছিল।

কোথাও ফুল এসেছে, কোথাও ঝুলছে বড় আকারের বেগুন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত থেকে ইতোমধ্যে বেগুন তুলে বাজারেও বিক্রি করছেন কৃষকেরা। কিন্তু হঠাৎ পাতা হলুদ হয়ে গাছ মরে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

চাষিরা জানান, প্রথম দিকে বেগুন গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দেখে ভালো লাভের আশা করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই গাছের পাতা হলুদ হতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে গাছ। রোগ থেকে রক্ষা পেতে অন্তত ১০ বার কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করেও কোনো সুফল মিলছে না। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আক্রান্ত গাছগুলো উপড়ে ফেলতে হচ্ছে।

এতে দিন দিন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বেগুনের ক্ষেত। তাদের দাবি, বর্তমানে বাজারে বেগুনের দাম ভালো। কিন্তু ক্ষেতের গাছ রোগাক্রান্ত হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে লাভের আশা তো দূরের কথা, অনেকের উৎপাদন খরচও উঠে আসবে না। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও কার্যকর পরামর্শ না পেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। তাই দ্রুত কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ে তদারকি ও কার্যকর সহায়তা চান তারা।

এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, বেগুন গাছে মোজাইক ভাইরাস রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ উপায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরামর্শ নিতে এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক কৃষি অফিসে আসেননি। তারপরও সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও বেগুনের ক্ষেত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ধুনটে কৃষকের ক্ষেতের বেগুন গাছ পাতা হলুদ রোগে মারা যাচ্ছে

Update Time : ০৭:২০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

 

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চরে বেগুন চাষ করেছিলেন কৃষকেরা। ক্ষেতজুড়ে সবুজের সমারোহ, গাছে গাছে ফুল আর ফল দেখে ভালো ফলনের আশায় ছিলেন । কিন্তু সেই স্বপ্নে এখন দুশ্চিন্তার ছায়া। পাতা হলুদ হয়ে একে একে মরে যাচ্ছে বেগুন গাছ। রোগ দমনে বারবার ওষুধ প্রয়োগ করেও মিলছে না প্রতিকার। এতে উৎপাদন খরচও তুলতে না পারার শঙ্কায় পড়েছেন বেগুন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ করেছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে রয়েছে গ্রিনবল, ভেনজুরা, গ্রিনগ্লোব ও ইরি জাতের বেগুন। অধিকাংশ ক্ষেতেই গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছিল।

কোথাও ফুল এসেছে, কোথাও ঝুলছে বড় আকারের বেগুন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত থেকে ইতোমধ্যে বেগুন তুলে বাজারেও বিক্রি করছেন কৃষকেরা। কিন্তু হঠাৎ পাতা হলুদ হয়ে গাছ মরে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

চাষিরা জানান, প্রথম দিকে বেগুন গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দেখে ভালো লাভের আশা করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই গাছের পাতা হলুদ হতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে গাছ। রোগ থেকে রক্ষা পেতে অন্তত ১০ বার কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করেও কোনো সুফল মিলছে না। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আক্রান্ত গাছগুলো উপড়ে ফেলতে হচ্ছে।

এতে দিন দিন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বেগুনের ক্ষেত। তাদের দাবি, বর্তমানে বাজারে বেগুনের দাম ভালো। কিন্তু ক্ষেতের গাছ রোগাক্রান্ত হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে লাভের আশা তো দূরের কথা, অনেকের উৎপাদন খরচও উঠে আসবে না। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও কার্যকর পরামর্শ না পেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। তাই দ্রুত কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ে তদারকি ও কার্যকর সহায়তা চান তারা।

এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, বেগুন গাছে মোজাইক ভাইরাস রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ উপায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরামর্শ নিতে এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক কৃষি অফিসে আসেননি। তারপরও সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও বেগুনের ক্ষেত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।