১০:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরে পায়ে পচনধরা এক অজ্ঞাত অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি

 

বগুড়ার শেরপুরে রাস্তার পাশে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করা অসুস্থ ও ডান পায়ে পচনধরা এক অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ভিমজানী এলাকার রাস্তার পাশ থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিমজানী গ্রামের রাস্তার পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের বালুর মেঝেতে দীর্ঘদিন ধরে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি পড়েছিলেন। শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ থাকায় তিনি নড়াচড়া করতে পারছিলেন না। তাঁর ডান পায়ের গোড়ালিতে পচন ধরে মারাত্মক ক্ষত তৈরি হয়েছিল।
বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাঈম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করেন। তবে তিনি কোনো সরাসরি পদক্ষেপ না নিয়ে ভবঘুরে আইনের দোহাই দিয়ে দায়িত্ব পুলিশের ওপর ছেড়ে দেন ।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন গ্রহণ করবে।
এরপর সাংবাদিকদের আবেদনের ভিত্তিতে শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। পুলিশ ও সাংবাদিকদের যৌথ উদ্যোগে অসুস্থ ব্যক্তিটিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, উদ্ধারকৃত ব্যক্তির পায়ের ক্ষত পচে গ্যাংগ্রিন হয়ে গেছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে ড্রেসিং ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া শুরু হয়েছে। সুস্থ হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।
গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি নিজের নাম-পরিচয় বা ঠিকানা বলতে পারছেন না। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কেবল বলছেন, “আমি মানুষ।” ফলে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা এবং পরিবারের সন্ধান পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিক ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আপাতত ওই ব্যক্তির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। একই সাথে তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যদি কেউ এই ব্যক্তির পরিচয় বা স্বজনদের খোঁজ জেনে থাকেন, তবে নিকটস্থ শেরপুর থানা অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

 

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

বগুড়ায় জামায়াতের মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান

শেরপুরে পায়ে পচনধরা এক অজ্ঞাত অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি

Update Time : ০৭:০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

 

বগুড়ার শেরপুরে রাস্তার পাশে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করা অসুস্থ ও ডান পায়ে পচনধরা এক অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ভিমজানী এলাকার রাস্তার পাশ থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিমজানী গ্রামের রাস্তার পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের বালুর মেঝেতে দীর্ঘদিন ধরে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি পড়েছিলেন। শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ থাকায় তিনি নড়াচড়া করতে পারছিলেন না। তাঁর ডান পায়ের গোড়ালিতে পচন ধরে মারাত্মক ক্ষত তৈরি হয়েছিল।
বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাঈম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করেন। তবে তিনি কোনো সরাসরি পদক্ষেপ না নিয়ে ভবঘুরে আইনের দোহাই দিয়ে দায়িত্ব পুলিশের ওপর ছেড়ে দেন ।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন গ্রহণ করবে।
এরপর সাংবাদিকদের আবেদনের ভিত্তিতে শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। পুলিশ ও সাংবাদিকদের যৌথ উদ্যোগে অসুস্থ ব্যক্তিটিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, উদ্ধারকৃত ব্যক্তির পায়ের ক্ষত পচে গ্যাংগ্রিন হয়ে গেছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে ড্রেসিং ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া শুরু হয়েছে। সুস্থ হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।
গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি নিজের নাম-পরিচয় বা ঠিকানা বলতে পারছেন না। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কেবল বলছেন, “আমি মানুষ।” ফলে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা এবং পরিবারের সন্ধান পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিক ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আপাতত ওই ব্যক্তির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। একই সাথে তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যদি কেউ এই ব্যক্তির পরিচয় বা স্বজনদের খোঁজ জেনে থাকেন, তবে নিকটস্থ শেরপুর থানা অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।