০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

নাটোরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়ে ভাঙচুর, চেয়ার-টেবিল-আলমারি লুট

 

নাটোরে মুক্তিযুদ্ধ সংসদের কার্যালয়ে ভাঙচুর শেষে লুটপাট চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে বড়াইগ্রাম পৌর শহরের মৌখারা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর হওয়া কার্যালয়টিতে বড়াইগ্রাম পৌরসভা ও বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কার্যক্রম চলছিল।

ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে শুক্রবার বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা (৭৫)। তিনি মৌখাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই কার্যালয়ের কমান্ডারের দায়িত্বে আছেন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য, হামলার শিকার কার্যালয়টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত। নাটোর জেলা প্রশাসকের লিখিত অনুমতির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ওই কার্যালয় ব্যবহার হয়ে আসছিল। কার্যালয়টিতে পৌর ও ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা বলেন, ‌কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমিই দায়িত্ব পালন করে আসছি। বৃহস্পতিবার রাতে কার্যালয়টি ভাঙা হয়েছে। পরে লুটপাট করা হয়েছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চেয়ার, টেবিল ও আসবাব। নিয়ে যাওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংরক্ষিত কাগজপত্রের আলমারি। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, ‘মেজর জিয়াউর রহমানও একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। অথচ তারই গড়া দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো কর্মকাণ্ড খুবই লজ্জাজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের পাশের চা বিক্রেতা বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কার্যালয়টিতে মুক্তিযোদ্ধাদের আনাগোনা কম ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়টি অক্ষত দেখে যাই। কিন্তু সকালে এসে দেখি কার্যালয় ভাঙাচোরা অবস্থায় খালি পড়ে আছে। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের খবর দিই।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘৭১-এ তারা জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছেন। অথচ তাদেরই কার্যালয় নির্মমভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। চুরি করা হয়েছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আসবাব। এ ধরনের নিন্দনীয় ঘটনার দ্রুত বিচার চাই।’

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজও শুরু করেছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার (পদধিকার বলে) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট জাতির জন্য খুবই দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

নাটোরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়ে ভাঙচুর, চেয়ার-টেবিল-আলমারি লুট

Update Time : ০৭:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

 

নাটোরে মুক্তিযুদ্ধ সংসদের কার্যালয়ে ভাঙচুর শেষে লুটপাট চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে বড়াইগ্রাম পৌর শহরের মৌখারা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর হওয়া কার্যালয়টিতে বড়াইগ্রাম পৌরসভা ও বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কার্যক্রম চলছিল।

ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে শুক্রবার বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা (৭৫)। তিনি মৌখাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই কার্যালয়ের কমান্ডারের দায়িত্বে আছেন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য, হামলার শিকার কার্যালয়টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত। নাটোর জেলা প্রশাসকের লিখিত অনুমতির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ওই কার্যালয় ব্যবহার হয়ে আসছিল। কার্যালয়টিতে পৌর ও ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা বলেন, ‌কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমিই দায়িত্ব পালন করে আসছি। বৃহস্পতিবার রাতে কার্যালয়টি ভাঙা হয়েছে। পরে লুটপাট করা হয়েছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চেয়ার, টেবিল ও আসবাব। নিয়ে যাওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংরক্ষিত কাগজপত্রের আলমারি। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, ‘মেজর জিয়াউর রহমানও একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। অথচ তারই গড়া দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো কর্মকাণ্ড খুবই লজ্জাজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের পাশের চা বিক্রেতা বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কার্যালয়টিতে মুক্তিযোদ্ধাদের আনাগোনা কম ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়টি অক্ষত দেখে যাই। কিন্তু সকালে এসে দেখি কার্যালয় ভাঙাচোরা অবস্থায় খালি পড়ে আছে। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের খবর দিই।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘৭১-এ তারা জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছেন। অথচ তাদেরই কার্যালয় নির্মমভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। চুরি করা হয়েছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আসবাব। এ ধরনের নিন্দনীয় ঘটনার দ্রুত বিচার চাই।’

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজও শুরু করেছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার (পদধিকার বলে) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট জাতির জন্য খুবই দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’