শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টার জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পিল্লাই বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় বিচারকের দায়িত্বে আছেন।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ মূলত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন কেন্দ্রিক। ২০১৭ সালে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশসহ মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাড়ি জমায়। এ নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করে গাম্বিয়া।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেলে নরওয়ের অসলোতে শান্তিতে পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন পিল্লাই।
দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পিল্লাই। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারও ছিলেন। সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
পিল্লাইয়ের পরিচয় হিসেবে নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, তিনি ১৯৪১ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরুর পর তিনি এই ক্ষেত্রের পথিকৃৎ হয়ে ওঠেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিল্লাই এমন একজন ব্যক্তি, যিনি অসাধারণ সাহস ও সততার সঙ্গে সমন্বিত বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ দেখিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
নাভি পিল্লাই বিভিন্ন রাষ্ট্র ও নেতাদের জবাবদিহির আওতায় এনেছেন। সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বারবার আইনের শাসন মেনে চলার ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 

























