০৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরে চলছে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, ব্যস্ত কারিগররা

 

শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বগুড়ার শেরপুরে চলছে উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। মাটির কাজ শেষে রং ও অলংকরণের ছোঁয়ায় রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিজন। দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় প্রতিমাশিল্পীরা। পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জা, প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজও চলছে পুরোদমে। উৎসবকে ঘিরে এলাকা জুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কারখানা ও মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত কারিগররা। কেউ শুকিয়ে যাওয়া প্রতিমায় রঙের ছোঁয়া দিচ্ছেন, আবার কেউ পোশাকে অলংকরণের নিখুঁত কাজ করছেন। নিপুণ হাত আর প্রতিভায় দেবীর পূর্ণাঙ্গ রূপ ফুটিয়ে তুলছেন তাঁরা। উপজেলার দক্ষিণ সাহাপাড়া ষোলআনা মন্দিরের প্রতিমাশিল্পী শ্রীকান্ত দাস জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ এখন একেবারে শেষ প্রান্তে। মাটির কাজ শেষ করে এখন রং ও সাজসজ্জা চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দিতে কারিগররা নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন-রাত কাজ করছেন।

শেরপুর শহরসহ উপজলোর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন নামকরা শিল্পী। সকাল বাজারের অবুঝ, বকুলতলার তাপস তাম্বুলী, কলেজ রোডের চন্দন সূত্রধর এবং দক্ষিণ সাহাপাড়ার চাঁদ সরকার দিন-রাত কাজ করে চলেছেন। কারিগররা জানান, বাঁশ-কাঠের কাঠামো থেকে শুরু করে মাটি, রং ও পোশাক সাজানো-প্রতিটি ধাপেই প্রচুর সময় ও মনোযোগ দিতে হয়। পূজার দিন ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসবের আমেজ বাড়াতে ও সমবেত ভক্তদের সার্বিক সহায়তা নিশ্চিতে সরকারিভাবে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শেরপুরের ৯৪টি পূজামণ্ডপের জন্য মোট ৫৬ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপপ্রতি ৬০০ কেজি করে এ চাল বিতরণ করা হবে।

উৎসব নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে শেরপুর উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনায় মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল ও নজরদারি থাকবে। ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে মূল উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর মায়ের আরাধনায় মুখরিত হতে এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

শান্তিতে নোবেল পেলেন রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচারক নাভানেথেম নাভি পিল্লাই

শেরপুরে চলছে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, ব্যস্ত কারিগররা

Update Time : ০৭:৪৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

 

শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বগুড়ার শেরপুরে চলছে উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। মাটির কাজ শেষে রং ও অলংকরণের ছোঁয়ায় রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিজন। দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় প্রতিমাশিল্পীরা। পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জা, প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজও চলছে পুরোদমে। উৎসবকে ঘিরে এলাকা জুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কারখানা ও মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত কারিগররা। কেউ শুকিয়ে যাওয়া প্রতিমায় রঙের ছোঁয়া দিচ্ছেন, আবার কেউ পোশাকে অলংকরণের নিখুঁত কাজ করছেন। নিপুণ হাত আর প্রতিভায় দেবীর পূর্ণাঙ্গ রূপ ফুটিয়ে তুলছেন তাঁরা। উপজেলার দক্ষিণ সাহাপাড়া ষোলআনা মন্দিরের প্রতিমাশিল্পী শ্রীকান্ত দাস জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ এখন একেবারে শেষ প্রান্তে। মাটির কাজ শেষ করে এখন রং ও সাজসজ্জা চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দিতে কারিগররা নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন-রাত কাজ করছেন।

শেরপুর শহরসহ উপজলোর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন নামকরা শিল্পী। সকাল বাজারের অবুঝ, বকুলতলার তাপস তাম্বুলী, কলেজ রোডের চন্দন সূত্রধর এবং দক্ষিণ সাহাপাড়ার চাঁদ সরকার দিন-রাত কাজ করে চলেছেন। কারিগররা জানান, বাঁশ-কাঠের কাঠামো থেকে শুরু করে মাটি, রং ও পোশাক সাজানো-প্রতিটি ধাপেই প্রচুর সময় ও মনোযোগ দিতে হয়। পূজার দিন ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসবের আমেজ বাড়াতে ও সমবেত ভক্তদের সার্বিক সহায়তা নিশ্চিতে সরকারিভাবে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শেরপুরের ৯৪টি পূজামণ্ডপের জন্য মোট ৫৬ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপপ্রতি ৬০০ কেজি করে এ চাল বিতরণ করা হবে।

উৎসব নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে শেরপুর উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনায় মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল ও নজরদারি থাকবে। ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে মূল উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর মায়ের আরাধনায় মুখরিত হতে এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।