০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ায় দুই শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামির ৬০ বছরের কারাদণ্ড

বগুড়ায় ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের মামলায় নুর ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুটি মামলায় তাকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী দুই শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মারুফ হোসেন এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত নুর ইসলাম কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের আড়োলা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ আড়োলা আবাসন প্রকল্পে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে খাবার ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণ করেন নুর ইসলাম। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরদিন এক শিশু জ্বরে আক্রান্ত হলে এবং অন্য শিশুর তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

এ ঘটনায় এক শিশুর মা বাদী হয়ে কাহালু থানায় মামলা করেন। পুলিশ দুই শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শিশু দুটির ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আব্দুল মান্নান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালত সার্বিক বিষয় ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে দুটি পৃথক মামলায় নুর ইসলামকে ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী একটি সাজা ভোগের পর অপর সাজা শুরু হবে।

আব্দুল মান্নান আরও বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার এক লাখ টাকা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগী দুই শিশুর পরিবারকে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

শান্তিতে নোবেল পেলেন রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচারক নাভানেথেম নাভি পিল্লাই

বগুড়ায় দুই শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামির ৬০ বছরের কারাদণ্ড

Update Time : ০৩:১৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ায় ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের মামলায় নুর ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুটি মামলায় তাকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী দুই শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মারুফ হোসেন এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত নুর ইসলাম কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের আড়োলা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ আড়োলা আবাসন প্রকল্পে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে খাবার ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণ করেন নুর ইসলাম। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরদিন এক শিশু জ্বরে আক্রান্ত হলে এবং অন্য শিশুর তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

এ ঘটনায় এক শিশুর মা বাদী হয়ে কাহালু থানায় মামলা করেন। পুলিশ দুই শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শিশু দুটির ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আব্দুল মান্নান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালত সার্বিক বিষয় ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে দুটি পৃথক মামলায় নুর ইসলামকে ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী একটি সাজা ভোগের পর অপর সাজা শুরু হবে।

আব্দুল মান্নান আরও বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার এক লাখ টাকা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগী দুই শিশুর পরিবারকে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট।