০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

যমুনার চরের জীবন-জীবিকার অন্যতম মাধ্যম ঘোড়ার গাড়ি

একসময় গ্রামবাংলার পথে-প্রান্তরে ছুটে চলত ঘোড়ার গাড়ি। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম ছিল এটি। এখন সেই দৃশ্য দেখা যায় কেবলই কিছু দুর্গম চরে, যেখানে আধুনিক যান্ত্রিক যানবাহনের পক্ষে চলাচল সম্ভব নয়। যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে আজও সেই ঘোড়ার গাড়িই প্রধান ভরসা মানুষের।

বর্ষাকালে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়িই হয়ে ওঠে চরবাসীর জীবনের অংশ। সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে এখনও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। শহর থেকে নৌকায় করে আনা মালামাল ঘোড়ার গাড়িতে করে কয়েক কিলোমিটার দূরের গন্তব্যে পৌছানো হয়। চরবাসীর কাছে এ যেন শুধু বাহন নয়, জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সত্তর বছর বয়সী ঘোড়া গাড়িচালক আনছার আলী বলেন, বহু বছর ধরেই ঘোড়ার গাড়ি চালান। ফসল ঘরে তোলা থেকে বাজারে নেওয়া সবই করেন এই গাড়িতে। মেছড়া গ্রামের হোসেন আলী জানান, ফসল ঘরে তোলা হোক বা হাটে পণ্য নিয়ে যাওয়া, ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া উপায় নেই। নদীপারের মুদি দোকানদার শমশের আলী বলেন, দোকানের বিভিন্ন মালামাল বিভিন্ন বহন করতে ঘোড়ার গাড়িই ভরসা।

চৌহালীর তেগুরি চরের আব্দুল আলিম জানান, তারা প্রায় এক যুগ ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালাচ্ছেন। প্রতিদিন আয় হয় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, তার মধ্যে ২০০-২৫০ টাকা লাগে ঘোড়ার খাবারে। তবু এই আয়েই চলে তাদের সংসার।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কাওয়াকোলা ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান জামাত আলী মুন্সি বলেন, নদী তীরবর্তী বালুময় রাস্তাগুলোতে চলাচল বা পণ্য পরিবহনের জন্য একমাত্র যানবাহন ঘোড়ার গাড়ি আজও চলছে।

যমুনার চরে সূর্য ডোবে, নৌকার পাল নিস্তব্ধ হয়ে যায় কিন্তু বালুর রাস্তা ধরে তখনও ছুটে চলে একেকটি ঘোড়ার গাড়ি। আধুনিকতার জোয়ারে যখন গ্রামীণ ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে, তখন এই গাড়িগুলো যেন সময়ের সাক্ষ্মী হয়ে টিকে আছে যমুনার বুকজুড়ে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: ড. মঈন খান

যমুনার চরের জীবন-জীবিকার অন্যতম মাধ্যম ঘোড়ার গাড়ি

Update Time : ০৭:১৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

একসময় গ্রামবাংলার পথে-প্রান্তরে ছুটে চলত ঘোড়ার গাড়ি। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম ছিল এটি। এখন সেই দৃশ্য দেখা যায় কেবলই কিছু দুর্গম চরে, যেখানে আধুনিক যান্ত্রিক যানবাহনের পক্ষে চলাচল সম্ভব নয়। যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে আজও সেই ঘোড়ার গাড়িই প্রধান ভরসা মানুষের।

বর্ষাকালে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়িই হয়ে ওঠে চরবাসীর জীবনের অংশ। সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে এখনও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। শহর থেকে নৌকায় করে আনা মালামাল ঘোড়ার গাড়িতে করে কয়েক কিলোমিটার দূরের গন্তব্যে পৌছানো হয়। চরবাসীর কাছে এ যেন শুধু বাহন নয়, জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সত্তর বছর বয়সী ঘোড়া গাড়িচালক আনছার আলী বলেন, বহু বছর ধরেই ঘোড়ার গাড়ি চালান। ফসল ঘরে তোলা থেকে বাজারে নেওয়া সবই করেন এই গাড়িতে। মেছড়া গ্রামের হোসেন আলী জানান, ফসল ঘরে তোলা হোক বা হাটে পণ্য নিয়ে যাওয়া, ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া উপায় নেই। নদীপারের মুদি দোকানদার শমশের আলী বলেন, দোকানের বিভিন্ন মালামাল বিভিন্ন বহন করতে ঘোড়ার গাড়িই ভরসা।

চৌহালীর তেগুরি চরের আব্দুল আলিম জানান, তারা প্রায় এক যুগ ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালাচ্ছেন। প্রতিদিন আয় হয় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, তার মধ্যে ২০০-২৫০ টাকা লাগে ঘোড়ার খাবারে। তবু এই আয়েই চলে তাদের সংসার।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কাওয়াকোলা ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান জামাত আলী মুন্সি বলেন, নদী তীরবর্তী বালুময় রাস্তাগুলোতে চলাচল বা পণ্য পরিবহনের জন্য একমাত্র যানবাহন ঘোড়ার গাড়ি আজও চলছে।

যমুনার চরে সূর্য ডোবে, নৌকার পাল নিস্তব্ধ হয়ে যায় কিন্তু বালুর রাস্তা ধরে তখনও ছুটে চলে একেকটি ঘোড়ার গাড়ি। আধুনিকতার জোয়ারে যখন গ্রামীণ ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে, তখন এই গাড়িগুলো যেন সময়ের সাক্ষ্মী হয়ে টিকে আছে যমুনার বুকজুড়ে।