০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরে মুরগির খামারিকে অপহরণ করে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি,গ্রেফতার ১

 

বগুড়ার শেরপুরে শরিফ শেখ (৩৪) নামে এক মুরগির খামারিকে অপহরণের পর ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে না পওয়ায় কয়েক দফায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ইজাহারভুক্ত আসামি মিঠু হোসেনকে গ্রেফতর করেছে। গত বুধবার দিবাগত রাতে সাদিয়া খাতুন বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮ টার দিকে গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া চারমাথা এলাকা থেকে শরিফ শেখকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে রাসেল বাবু হিমুর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দিতে না পারায় তাকে দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগী শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, হিমুর অফিস থেকে তাকে মিঠু হোসেনের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানেও তাকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া ও নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে সেখানেও মুক্তিপণের টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

শরিফ জানান, অপহরণের পাঁচ দিন পর বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুরের একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে তাকে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা।

শরিফ শেখ বর্তমানে মুরগির খামারের ব্যবসা করেন। এর আগে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। শরিফের পরিবারের দাবি, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি বেশ কিছু টাকা পেয়েছিলেন। ওই টাকা দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেন।

সেই অর্থের বিষয়টি জেনে তাকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। শরিফের বাবা হারেজ শেখ বলেন, আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে কয়েক দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি মিঠু হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

শেরপুরে মুরগির খামারিকে অপহরণ করে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি,গ্রেফতার ১

Update Time : ০৬:৪৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

 

বগুড়ার শেরপুরে শরিফ শেখ (৩৪) নামে এক মুরগির খামারিকে অপহরণের পর ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে না পওয়ায় কয়েক দফায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ইজাহারভুক্ত আসামি মিঠু হোসেনকে গ্রেফতর করেছে। গত বুধবার দিবাগত রাতে সাদিয়া খাতুন বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮ টার দিকে গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া চারমাথা এলাকা থেকে শরিফ শেখকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে রাসেল বাবু হিমুর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দিতে না পারায় তাকে দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগী শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, হিমুর অফিস থেকে তাকে মিঠু হোসেনের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানেও তাকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া ও নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে সেখানেও মুক্তিপণের টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

শরিফ জানান, অপহরণের পাঁচ দিন পর বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুরের একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে তাকে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা।

শরিফ শেখ বর্তমানে মুরগির খামারের ব্যবসা করেন। এর আগে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। শরিফের পরিবারের দাবি, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি বেশ কিছু টাকা পেয়েছিলেন। ওই টাকা দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেন।

সেই অর্থের বিষয়টি জেনে তাকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। শরিফের বাবা হারেজ শেখ বলেন, আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে কয়েক দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি মিঠু হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।