০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

নদীর চরে মাসকালাইয়ের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় যমুনা ও বাঙালি নদীর অববাহিকায় জেগে ওঠা ৯টি চরে চলতি মৌসুমে মাসকালাইয়ের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং সেচ ও সারের খরচ কম হওয়ার পাশাপশি ভালো ফলনের আশায় কৃষকদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্ল্যা ইউনিয়নের যমুনা নদী পরিবেষ্টিত চর এলাকার চলতি বছর ৫৫ হেক্টর জমিতে মাসকালাই বপন করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৪০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় এবার ১৫ হেক্টর জমিতে বেশী বপন করা হয়েছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে চরের উর্বর পলি মাটিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ছাড়াই চাষিরা মাসকালাই রোপণ করেছেন।

স্থানীয় খাটিয়ামারি চরের বাসিন্দা নাজমুল হক, সাইদুর রহমান, তুহিন মিয়া বলেন, মাসকালাই চাষে উৎপাদন খরচ অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক কম। জমি চাষ দিয়ে বীজ ছিটিয়ে দিলেই অল্প পরিচর্যাতেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়। বাজারে মাসকালাই ডালের ভালো চাহিদা ও ন্যায্য মূল্য থাকায় এ অঞ্চলের চাষিরা দিন দিন মাসকালাই চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

এছাড়াও তারা আরও বলেন, গত বছরও আমরা মাসকালাই চাষ করে লাভবান হয়েছিলাম। এ বছর এখন পর্যন্ত পোকামাকড়ের আক্রমণ ও রোগবালাই না থাকায় গাছের যে অবস্থা, তাতে বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছি।

সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, এবার সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষক ৫৫ হেক্টর জমিতে মাসকালাই বপন করেছেন। আগষ্ট মাসের ২য় সপ্তাহে কালায়ের বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপনের ২ থেকে আড়াই মাসের মাথায় কালায় ঘরে তোলা সম্ভব।

প্রতি বিঘা জমিতে ৪/৫ মণ কালায় উৎপন্ন হয়। দামও বেশ ভাল। চরাঞ্চলের বেলে-দোঁয়াশ মাটি মাসকালাই চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কম খরচে ও স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এই ডাল জাতীয় ফসল চাষের আগ্রহ বেড়েছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

নদীর চরে মাসকালাইয়ের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

Update Time : ০৭:৫৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় যমুনা ও বাঙালি নদীর অববাহিকায় জেগে ওঠা ৯টি চরে চলতি মৌসুমে মাসকালাইয়ের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং সেচ ও সারের খরচ কম হওয়ার পাশাপশি ভালো ফলনের আশায় কৃষকদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্ল্যা ইউনিয়নের যমুনা নদী পরিবেষ্টিত চর এলাকার চলতি বছর ৫৫ হেক্টর জমিতে মাসকালাই বপন করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৪০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় এবার ১৫ হেক্টর জমিতে বেশী বপন করা হয়েছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে চরের উর্বর পলি মাটিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ছাড়াই চাষিরা মাসকালাই রোপণ করেছেন।

স্থানীয় খাটিয়ামারি চরের বাসিন্দা নাজমুল হক, সাইদুর রহমান, তুহিন মিয়া বলেন, মাসকালাই চাষে উৎপাদন খরচ অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক কম। জমি চাষ দিয়ে বীজ ছিটিয়ে দিলেই অল্প পরিচর্যাতেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়। বাজারে মাসকালাই ডালের ভালো চাহিদা ও ন্যায্য মূল্য থাকায় এ অঞ্চলের চাষিরা দিন দিন মাসকালাই চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

এছাড়াও তারা আরও বলেন, গত বছরও আমরা মাসকালাই চাষ করে লাভবান হয়েছিলাম। এ বছর এখন পর্যন্ত পোকামাকড়ের আক্রমণ ও রোগবালাই না থাকায় গাছের যে অবস্থা, তাতে বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছি।

সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, এবার সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষক ৫৫ হেক্টর জমিতে মাসকালাই বপন করেছেন। আগষ্ট মাসের ২য় সপ্তাহে কালায়ের বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপনের ২ থেকে আড়াই মাসের মাথায় কালায় ঘরে তোলা সম্ভব।

প্রতি বিঘা জমিতে ৪/৫ মণ কালায় উৎপন্ন হয়। দামও বেশ ভাল। চরাঞ্চলের বেলে-দোঁয়াশ মাটি মাসকালাই চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কম খরচে ও স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এই ডাল জাতীয় ফসল চাষের আগ্রহ বেড়েছে।