০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ায় ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৪

চলতি বছরের ১০ মাসে বগুড়া জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছে। জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার ১৩ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতদের প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর-তরুণ ও শিক্ষার্থী। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রতিমাসে গড়ে বগুড়ায় ১৩ জন করে মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়।

নিহতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই কিশোর, তরুণ ও শিক্ষার্থী। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণরা বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিহত হয় বেশি। গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলেও বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করতে গিয়ে বগুড়া সদরের ঘোড়াধাপ বাজারের কাছে সড়কে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দয়াল চন্দ্র নামে এক তরুন মোটরসাইকেল চালক নিহত ও অপর দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়।

জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বগুড়া জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১০ মাসে সদরে ২৬ জন, শাজাহানপুরে ২৭ জন, শিবগঞ্জে ১০ জন, মোকামতলায় ১২ জন, সোনাতলায় ৪ জন, গাবতলিতে ২ জন, সারিয়াকান্দিতে ২ জন, আদমদিঘীতে ৩ জন, দুপচাঁচিয়ায় ৫ জন, নন্দীগ্রামে ৭ জন, কাহালুতে ৫ জন, শেরপুর ২৯ জন, ও ধুনটে ২জন নিহত হয়েছে।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দূর্ঘটনায় মানুষ মারা গেছে শেরপুরে মহাসড়কে। এরপর শাজাহানপুর ও বগুড়া সদরে সড়কে প্রাণ ঝরে বেশি মানুষের। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার বিষয়ে সংলিষ্ট থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলেন, বগুড়ায় সড়কে মৃত্যুর ঘটনা আরো বেশি। সব তথ্যই পুলিশ পায়না। অনেক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেলে তা পুলিশকে জানানো হয়না। পুলিশকে জানালে আইনি প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে যেতে হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় এই কারণে স্বজনরা পুলিশকে সব সময় জানায় না।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে সবার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দরকার। গণমাধ্যম, সুধীসমাজ, বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও, ছাত্রসমাজ, যাত্রী, চালক,পথচারীসহ জনগণকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। গণসচেতনতা বাড়াতে হবে। গণ সচেতনতা বাড়াতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ টিআই ( প্রশাসন) মো: সালেকুজ্জামান খাঁন বলেন সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণগুলো হলো, ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন,গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, হেলমেট ব্যবহার না করে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো, বাস ও ট্রাকে অতিরিক্ত যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন, ট্রাফিক আইন না মানা, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা ও অসতর্কতা ও পথচারীদের রাস্তা পারাপারে অসচেতনতা,যেখানে যেখানে যাত্রী ওঠানামা করাসহ নানাবিধ কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন মানলে এবং এ ব্যাপারে গণসচেতনতা বাড়াতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে।

 

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

বগুড়ায় ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৪

Update Time : ০৬:২০:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের ১০ মাসে বগুড়া জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছে। জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার ১৩ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতদের প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর-তরুণ ও শিক্ষার্থী। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রতিমাসে গড়ে বগুড়ায় ১৩ জন করে মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়।

নিহতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই কিশোর, তরুণ ও শিক্ষার্থী। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণরা বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিহত হয় বেশি। গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলেও বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করতে গিয়ে বগুড়া সদরের ঘোড়াধাপ বাজারের কাছে সড়কে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দয়াল চন্দ্র নামে এক তরুন মোটরসাইকেল চালক নিহত ও অপর দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়।

জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বগুড়া জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১০ মাসে সদরে ২৬ জন, শাজাহানপুরে ২৭ জন, শিবগঞ্জে ১০ জন, মোকামতলায় ১২ জন, সোনাতলায় ৪ জন, গাবতলিতে ২ জন, সারিয়াকান্দিতে ২ জন, আদমদিঘীতে ৩ জন, দুপচাঁচিয়ায় ৫ জন, নন্দীগ্রামে ৭ জন, কাহালুতে ৫ জন, শেরপুর ২৯ জন, ও ধুনটে ২জন নিহত হয়েছে।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দূর্ঘটনায় মানুষ মারা গেছে শেরপুরে মহাসড়কে। এরপর শাজাহানপুর ও বগুড়া সদরে সড়কে প্রাণ ঝরে বেশি মানুষের। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার বিষয়ে সংলিষ্ট থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলেন, বগুড়ায় সড়কে মৃত্যুর ঘটনা আরো বেশি। সব তথ্যই পুলিশ পায়না। অনেক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেলে তা পুলিশকে জানানো হয়না। পুলিশকে জানালে আইনি প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে যেতে হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় এই কারণে স্বজনরা পুলিশকে সব সময় জানায় না।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে সবার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দরকার। গণমাধ্যম, সুধীসমাজ, বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও, ছাত্রসমাজ, যাত্রী, চালক,পথচারীসহ জনগণকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। গণসচেতনতা বাড়াতে হবে। গণ সচেতনতা বাড়াতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ টিআই ( প্রশাসন) মো: সালেকুজ্জামান খাঁন বলেন সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণগুলো হলো, ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন,গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, হেলমেট ব্যবহার না করে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো, বাস ও ট্রাকে অতিরিক্ত যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন, ট্রাফিক আইন না মানা, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা ও অসতর্কতা ও পথচারীদের রাস্তা পারাপারে অসচেতনতা,যেখানে যেখানে যাত্রী ওঠানামা করাসহ নানাবিধ কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন মানলে এবং এ ব্যাপারে গণসচেতনতা বাড়াতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে।