প্রকৃতিতে চলছে শরৎকাল। পুরো ভাদ্র ও আশ্বিন মাসজুড়েও যখন তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে কাহিল জনজীবন তখন আশ্বিনের শেষ সপ্তাহে এসে বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার আকাশ কালো করে ঝরল মুষলধারে বৃষ্টি। সাথে চলে বজ্রপাত ও বাতাস। বৃহস্পতিবার পৌনে ২ ঘন্টায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একটানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। এদিকে লঘুচাপের ফলে আগামী পাঁচদিন থেমে থেমে এমন বৃষ্টি এবং বজ্রপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সপ্তাহের কর্মযজ্ঞের শেষ দিন বৃহস্পতিবার হওয়ায় শহরে লোকসমাগম থাকে বেশি। হঠাৎ করে আসা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে দেখা যায় অন্যরকম এক দৃশ্য। নগরে বিভিন্ন কাজে আসা মানুষজন বৃষ্টির পানিতে ভেজা থেকে বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বৃষ্টিতে নগরের বেশ কিছু সড়ক পানিতে ডুবে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এছাড়াও বাদুরতলা, সেউজগাড়ি, সবুজবাগ, মালগ্রাম, গোহাইল রোড, স্টেশনরোড, হাড্ডিপট্টি, সাতমাথা ছাড়াও আরও অনেক এলাকা কিছু সময়ের জন্য পানিতে ডুবে থাকে।
এদিকে বগুড়া সহ আশেপাশের এলাকায় ধানের আবাদের জন্য এই বৃষ্টি আর্শিবাদ হলেও আগাম আলু, শাকসবজি ও রবি মৌসুমের নানা ফসলের বীজ ও চারা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ফলনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকরা বলছেন, রবি মৌসুমের শুরুতে জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে সদ্য রোপণ করা আলু ও সবজির ক্ষতি হতে পারে। বগুড়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর প্রভাবে বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টি বয়ে যেতে পারে। ফলে আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ আগের দিন ১১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত আগামী রবিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিস।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 






















