১১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

 

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পারস্পারিক সুবিধাজনক সময়ে চীনে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্পর্কে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, সফরের অংশ হিসেবে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মোংলা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি এ সময় বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীনের সাম্প্রতিক সফর দুই দেশের সুসম্পর্ককে আরো প্রশস্থ ও সুগম করবে।

চীনের রাষ্ট্রদূত জবাবে বলেন, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণের জন্য আনুমানিক এক লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু করা এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘২+২’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর উদ্যোগ।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু, সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন–বাংলাদেশ–মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর, এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

চীনের রাষ্ট্রদূত গত এপ্রিল মাসে এল.জি.আর.ডি. মন্ত্রী থাকাকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চীন সফরের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ঐ সফরে আই.ডি.সি.পি.সি মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মন্ত্রীর পিতা লিউ শুকিং কর্তৃক তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে ১৯৮০ সালের আগস্টে পরিচয়পত্র পেশের দূর্লভ আলোকচিত্র ও ভিডিও হস্থান্তরের বিষয়টি স্মরণ করেন এবং ধন্যবাদ জানান।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

Update Time : ০৬:১৭:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

 

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পারস্পারিক সুবিধাজনক সময়ে চীনে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্পর্কে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, সফরের অংশ হিসেবে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মোংলা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি এ সময় বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীনের সাম্প্রতিক সফর দুই দেশের সুসম্পর্ককে আরো প্রশস্থ ও সুগম করবে।

চীনের রাষ্ট্রদূত জবাবে বলেন, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণের জন্য আনুমানিক এক লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু করা এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘২+২’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর উদ্যোগ।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু, সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন–বাংলাদেশ–মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর, এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

চীনের রাষ্ট্রদূত গত এপ্রিল মাসে এল.জি.আর.ডি. মন্ত্রী থাকাকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চীন সফরের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ঐ সফরে আই.ডি.সি.পি.সি মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মন্ত্রীর পিতা লিউ শুকিং কর্তৃক তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে ১৯৮০ সালের আগস্টে পরিচয়পত্র পেশের দূর্লভ আলোকচিত্র ও ভিডিও হস্থান্তরের বিষয়টি স্মরণ করেন এবং ধন্যবাদ জানান।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।