০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আজ সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

 

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

এই নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন। সবার সামনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এটি একটি খুব স্বচ্ছ পদ্ধতি।’

সংবিধানের ৪৮ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হলেন সংসদ সদস্যরা। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতাসহ সব এমপিই এই ভোটে অংশ নেবেন। সিইসি বলেন, ‘সব মিলিয়ে খুব হাই-প্রোফাইল একটি নির্বাচন।’

মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল তিনটি। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে দুটি এবং বর্তমান সরকারি দল বিএনপির পক্ষে একটি। পরে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ বীর বিক্রম।

ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে নির্ধারিত নিয়মে। প্রথম ধাপে ভোট দিতে সংসদ সদস্যদের সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নাম ও বিভক্তি নম্বর মুদ্রিত ব্যালট পেপার নিতে হবে।

তৃতীয় ধাপে ব্যালটের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে তা সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে। চতুর্থ ধাপে ব্যালটের নির্ধারিত অংশে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফাঁকা স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট দিতে হবে। পঞ্চম ধাপে ভোট দেওয়া শেষে ব্যালট পেপার সংসদ কক্ষে রাখা নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।

কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ব্যালট বাক্সে দেওয়ার আগে নির্বাচনকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে হবে। নির্বাচনকর্তা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। ব্যালট পেপারে যেখানে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে, সেখানে সংসদ সদস্যদের পূর্ণ নাম লিখতে হবে।

ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠকে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার, বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়া যাবে না। ভোট দেওয়ার সময় কোনো তাৎক্ষণিক সমস্যা হলে চিফ হুইপ ও বিরোধীদলের চিফ হুইপের শরণাপন্ন হতে হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোটদানের মুহূর্তটি বিটিভিতে লাইভ টেলিকাস্ট করা হবে। তিনি বলেন, ‘উনারা যখন ভোট দেবেন, এই বিষয়গুলো লাইভ টেলিকাস্ট করা হবে। পরে যখন কাউন্টিং শুরু হবে, তখন আবার লাইভ টেলিকাস্ট শুরু হয়ে যাবে।’

কীভাবে গণনা

বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হবে। এ সময় কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ ও বাতিল হয়েছে আর কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে সেগুলোর হিসাব করা হবে। এরপর প্রার্থীদের পাওয়া বৈধ ভোট গণনা করা হবে। সিইসি বলেন, ‘ঘোষণার সময়, যখন কাউন্টিং শেষ হয়ে যাবে, তখন সিইসি, নির্বাচনী কর্তা হিসেবে, যে রেজাল্টটা এনাউন্স করবেন, সবার সামনে এনাউন্স করবেন।’

কতটি ব্যালট প্রিন্ট হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অবশিষ্ট আছে, কতটি বাতিল হয়েছে- সব বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। প্রত্যেক প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তাও সবার সামনে জানানো হবে। সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচনকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশন থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সিইসি বলেন, ‘গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। ইটস আ ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড। সুতরাং এখানে কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।’ তিনি আরও জানান, কতটি ব্যালট প্রিন্ট হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অবশিষ্ট আছে, কতটি বাতিল হয়েছে—সব বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে।

১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘আমাদের এখানে ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি কিছুটা শর্ট। তারপরও আমরা যত রকমের এক্সারসাইজ সম্ভব এবং দরকার, সেটা করেছি।’ সংসদ সেশনে না থাকায় সিইসি নিজেই নির্বাচনের জন্য বৈঠক আহ্বান করেছেন। ৬ আগস্ট শিডিউল ঘোষণা ও ১১ আগস্ট গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রার্থীরা সংসদের ভেতরে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। তবে সংসদের বাইরে প্রচারণায় আইনগত বাধা নেই বলে জানান সিইসি। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর, সুচারু ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আজ সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

Update Time : ০৭:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

 

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

এই নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন। সবার সামনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এটি একটি খুব স্বচ্ছ পদ্ধতি।’

সংবিধানের ৪৮ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হলেন সংসদ সদস্যরা। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতাসহ সব এমপিই এই ভোটে অংশ নেবেন। সিইসি বলেন, ‘সব মিলিয়ে খুব হাই-প্রোফাইল একটি নির্বাচন।’

মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল তিনটি। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে দুটি এবং বর্তমান সরকারি দল বিএনপির পক্ষে একটি। পরে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ বীর বিক্রম।

ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে নির্ধারিত নিয়মে। প্রথম ধাপে ভোট দিতে সংসদ সদস্যদের সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নাম ও বিভক্তি নম্বর মুদ্রিত ব্যালট পেপার নিতে হবে।

তৃতীয় ধাপে ব্যালটের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে তা সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে। চতুর্থ ধাপে ব্যালটের নির্ধারিত অংশে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফাঁকা স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট দিতে হবে। পঞ্চম ধাপে ভোট দেওয়া শেষে ব্যালট পেপার সংসদ কক্ষে রাখা নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।

কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ব্যালট বাক্সে দেওয়ার আগে নির্বাচনকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে হবে। নির্বাচনকর্তা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। ব্যালট পেপারে যেখানে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে, সেখানে সংসদ সদস্যদের পূর্ণ নাম লিখতে হবে।

ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠকে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার, বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়া যাবে না। ভোট দেওয়ার সময় কোনো তাৎক্ষণিক সমস্যা হলে চিফ হুইপ ও বিরোধীদলের চিফ হুইপের শরণাপন্ন হতে হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোটদানের মুহূর্তটি বিটিভিতে লাইভ টেলিকাস্ট করা হবে। তিনি বলেন, ‘উনারা যখন ভোট দেবেন, এই বিষয়গুলো লাইভ টেলিকাস্ট করা হবে। পরে যখন কাউন্টিং শুরু হবে, তখন আবার লাইভ টেলিকাস্ট শুরু হয়ে যাবে।’

কীভাবে গণনা

বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হবে। এ সময় কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ ও বাতিল হয়েছে আর কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে সেগুলোর হিসাব করা হবে। এরপর প্রার্থীদের পাওয়া বৈধ ভোট গণনা করা হবে। সিইসি বলেন, ‘ঘোষণার সময়, যখন কাউন্টিং শেষ হয়ে যাবে, তখন সিইসি, নির্বাচনী কর্তা হিসেবে, যে রেজাল্টটা এনাউন্স করবেন, সবার সামনে এনাউন্স করবেন।’

কতটি ব্যালট প্রিন্ট হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অবশিষ্ট আছে, কতটি বাতিল হয়েছে- সব বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। প্রত্যেক প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তাও সবার সামনে জানানো হবে। সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচনকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশন থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সিইসি বলেন, ‘গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। ইটস আ ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড। সুতরাং এখানে কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।’ তিনি আরও জানান, কতটি ব্যালট প্রিন্ট হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অবশিষ্ট আছে, কতটি বাতিল হয়েছে—সব বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে।

১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘আমাদের এখানে ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি কিছুটা শর্ট। তারপরও আমরা যত রকমের এক্সারসাইজ সম্ভব এবং দরকার, সেটা করেছি।’ সংসদ সেশনে না থাকায় সিইসি নিজেই নির্বাচনের জন্য বৈঠক আহ্বান করেছেন। ৬ আগস্ট শিডিউল ঘোষণা ও ১১ আগস্ট গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রার্থীরা সংসদের ভেতরে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। তবে সংসদের বাইরে প্রচারণায় আইনগত বাধা নেই বলে জানান সিইসি। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর, সুচারু ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।