১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় অবৈধ বালু উত্তোলন হুমকির মুখে আড়িয়াঘাট সেতু

বগুড়ার সোনাতলায় শ্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার আড়িয়ারঘাট সেতু হুমকির মুখে পড়েছে । সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় দু”বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করেছিল। বালু উত্তোলনকারীদের কারণে সেই সেতুটির অস্তিত্ব এখন সংকটে।

অভিযোগ উঠেছে, এলাকার প্রভাবশালী একটি বালু ব্যবসায়ী চক্র দীর্ঘদিন সেতুটির তলদেশ থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের পাইলিং ও গোড়ার মাটি সরে গিয়ে সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে নদীতে ধসে পড়ার আশঙ্কায় আছেন স্থানীয় ও চলাচলকারী হাজারও মানুষ।

নদী রক্ষা আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেতুর নির্দিষ্ট দুরত্বের মধ্যে বা সেতুর তলদেশ থেকে কোনো ধরনের বালু বা মাটি উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ, আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে আড়িয়ারঘাট সেতুর গোড়া থেকেই অনবরত চালানো হচ্ছে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন। দিন-রাত সমান তালে বালু তোলায় নদীর তলদেশে সৃষ্টি হয়েছে সুবিশাল ও গভীর গর্তের।

নদীভাঙনের কবলে পড়ছে আশপাশের ফসলি জমি ও বাড়িঘর। আড়িয়ারঘাট সেতুটি সোনাতলা, সাঘাটা, সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রায় ২৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৮ লাখ মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারী এই সেতু দিয়ে চলাচল করে।

এছাড়াও মহিচরণ কুচিয়ামারি সড়কের কাছাকাছি তেলিহাটা এলাকায় শ্যালো মেশিন দিয়ে একটি পুকুর থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় বিস্তীর্ণ এলাকা দেবে যাওয়ার শংকায় রয়েছে । এ বিষয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ কবীর হোসেন বলেন, শুধু আড়িয়ারঘাট এলাকা নয়, আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে শতাধিক স্থানে ভূ-গর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলনের কাজ অব্যাহত রেখেছে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া বলেন, শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বিষয়ে অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিন আগে জোড়গাছা ইউনিয়নের উত্তর বয়ড়া সর্জন পাড়া ইলশামারি ঘাটে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল পুড়িয়ে ও গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় দফায় দেশব্যাপী ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান শুরু

সোনাতলায় অবৈধ বালু উত্তোলন হুমকির মুখে আড়িয়াঘাট সেতু

Update Time : ০৬:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার সোনাতলায় শ্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার আড়িয়ারঘাট সেতু হুমকির মুখে পড়েছে । সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় দু”বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করেছিল। বালু উত্তোলনকারীদের কারণে সেই সেতুটির অস্তিত্ব এখন সংকটে।

অভিযোগ উঠেছে, এলাকার প্রভাবশালী একটি বালু ব্যবসায়ী চক্র দীর্ঘদিন সেতুটির তলদেশ থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের পাইলিং ও গোড়ার মাটি সরে গিয়ে সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে নদীতে ধসে পড়ার আশঙ্কায় আছেন স্থানীয় ও চলাচলকারী হাজারও মানুষ।

নদী রক্ষা আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেতুর নির্দিষ্ট দুরত্বের মধ্যে বা সেতুর তলদেশ থেকে কোনো ধরনের বালু বা মাটি উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ, আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে আড়িয়ারঘাট সেতুর গোড়া থেকেই অনবরত চালানো হচ্ছে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন। দিন-রাত সমান তালে বালু তোলায় নদীর তলদেশে সৃষ্টি হয়েছে সুবিশাল ও গভীর গর্তের।

নদীভাঙনের কবলে পড়ছে আশপাশের ফসলি জমি ও বাড়িঘর। আড়িয়ারঘাট সেতুটি সোনাতলা, সাঘাটা, সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রায় ২৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৮ লাখ মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারী এই সেতু দিয়ে চলাচল করে।

এছাড়াও মহিচরণ কুচিয়ামারি সড়কের কাছাকাছি তেলিহাটা এলাকায় শ্যালো মেশিন দিয়ে একটি পুকুর থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় বিস্তীর্ণ এলাকা দেবে যাওয়ার শংকায় রয়েছে । এ বিষয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ কবীর হোসেন বলেন, শুধু আড়িয়ারঘাট এলাকা নয়, আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে শতাধিক স্থানে ভূ-গর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলনের কাজ অব্যাহত রেখেছে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া বলেন, শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বিষয়ে অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিন আগে জোড়গাছা ইউনিয়নের উত্তর বয়ড়া সর্জন পাড়া ইলশামারি ঘাটে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল পুড়িয়ে ও গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।