বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বগুড়ার শেরপুরে নির্মিত তিনতলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হস্তান্তরের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি কোনো কাজে আসছে না। উল্টো দেখভালের অভাবে ভবনটির প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা, আর ভেতর থেকে চুরি হয়ে গেছে জেনারেটর, সোলার প্যানেলসহ মূল্যবান সরকারি সরঞ্জাম।
দেখা গেছে, ৩ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গার ওপর নির্মিত কমপ্লেক্সটির প্রধান ফটক বন্ধ। ভবনের সীমানা প্রাচীরের কয়েকটি অংশ ভেঙে গেছে এবং দেওয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। পুরো চত্বর আগাছায় ঢেকে গিয়ে তৈরি হয়েছে ভুতুড়ে পরিবেশ। সার্বক্ষণিক কোনো নৈশপ্রহরী বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি না থাকায় ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৯৪ লাখ ৯ হাজার ২০৭ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সরকারি নকশা অনুযায়ী, ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ছয়টি বাণিজ্যিক দোকান এবং তৃতীয় তলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস, লাইব্রেরি, কনফারেন্স রুম ও মিউজিয়াম রয়েছে। এছাড়া বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য বসানো হয়েছিল ১ হাজার ২০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল। এসব দোকান ও কক্ষের ভাড়া থেকে অর্জিত আয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ তহবিলে জমা হওয়ার কথা ছিল।
বর্তমানে শেরপুর উপজেলায় তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৮১ জন, যার মধ্যে ৯২ জন ইতোমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের একটি মিলনমেলার দাবি জানালেও এই ভবনে নিয়মিত কোনো কার্যক্রম চালু হয়নি।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওবায়দুর রহমান জানান, ভবন হস্তান্তরের পর দীর্ঘদিন স্থায়ী কমিটি না থাকায় এটি সচল করা যায়নি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে কিছু দোকান ভাড়া দেওয়া হলেও সেগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “স্থায়ী কেয়ারটেকার না থাকায় একপর্যায়ে ভবনে ভাঙচুর চালানো হয় এবং জেনারেটর, সোলার সিস্টেম, পানির পাম্প, থাই গ্লাস এমনকি বৈদ্যুতিক তার পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে।”
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবনটি পুরোপুরি ব্যবহারোপযোগী ও সংস্কার করতে বেশ কিছু অর্থের প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সেখানে বসার স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 





















