০২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ছয় মাসে দেশে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গুমের শিকার প্রত্যেক ভুক্তভোগী যেন সরাসরি বিচার পান, সে লক্ষ্যেই নতুন আইন তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত এই আইনে গুমের অপরাধীদের শাস্তির পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও আলোচনাসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিনের ফ্যাসিজম থেকে মুক্ত হওয়া বাংলাদেশে গুমের মতো অপরাধের বিচার নিশ্চিতে সংসদে ‘গুম প্রতিকার আইন, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এই আইনে কোন ধরনের গুমের জন্য কী শাস্তি হবে, তার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি তদন্তপ্রক্রিয়া ও কারা তদন্ত করবেন, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া না গেলে তার ওয়ারিশরা যেন সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করেন, আইনে সেই সংস্থান রাখা হয়েছে।’ বিচারের পর অপরাধীরা ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্র সে দায়ভার নেবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

নিজের গুম হওয়ার স্মৃতিকথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলাম। আমরা যারা ফিরে এসেছি, তাদের বেঁচে থাকা নিয়ে অপসংস্কৃতি চর্চা ও হাস্যরস করা দুঃখজনক।

এটি ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশ করবে।’ তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের গত ছয় মাসে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেনি।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আধুনিক করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে একটি অগোছালো বাহিনী পেয়েছে সরকার। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় একটি এলিট ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা চলছে।’

মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ তদন্তে কোস্ট গার্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, জলদস্যুদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা গুমের সঙ্গে জড়িত সব বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

ছয় মাসে দেশে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৪:২৩:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

গুমের শিকার প্রত্যেক ভুক্তভোগী যেন সরাসরি বিচার পান, সে লক্ষ্যেই নতুন আইন তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত এই আইনে গুমের অপরাধীদের শাস্তির পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও আলোচনাসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিনের ফ্যাসিজম থেকে মুক্ত হওয়া বাংলাদেশে গুমের মতো অপরাধের বিচার নিশ্চিতে সংসদে ‘গুম প্রতিকার আইন, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এই আইনে কোন ধরনের গুমের জন্য কী শাস্তি হবে, তার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি তদন্তপ্রক্রিয়া ও কারা তদন্ত করবেন, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া না গেলে তার ওয়ারিশরা যেন সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করেন, আইনে সেই সংস্থান রাখা হয়েছে।’ বিচারের পর অপরাধীরা ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্র সে দায়ভার নেবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

নিজের গুম হওয়ার স্মৃতিকথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলাম। আমরা যারা ফিরে এসেছি, তাদের বেঁচে থাকা নিয়ে অপসংস্কৃতি চর্চা ও হাস্যরস করা দুঃখজনক।

এটি ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশ করবে।’ তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের গত ছয় মাসে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেনি।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আধুনিক করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে একটি অগোছালো বাহিনী পেয়েছে সরকার। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় একটি এলিট ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা চলছে।’

মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ তদন্তে কোস্ট গার্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, জলদস্যুদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা গুমের সঙ্গে জড়িত সব বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।