০৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

ছয় মাসে পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ সব শৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজ করছে।

বুধবার (২৬ আগষ্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেখানে জনগণের প্রত্যাশা, আইনের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে যে শৃঙ্খলা বাহিনী পাওয়া গেছে, তা ছিল বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে।

তিনি বলেন, শৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, তাদের মনোবল বৃদ্ধি এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করার কাজ একসঙ্গে চলছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো ঘটনা নেই, যেখানে অপরাধ সংঘটনের পরপরই পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারেনি—এটাই বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় পুলিশসহ শৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ও কর্মপরিবেশ অত্যন্ত নাজুক ছিল। গত ছয় মাসে সেই অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মনোবল ফিরে এসেছে এবং তারা পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে সচেষ্ট হয়েছে।

রংপুরে চার খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনাতেও অপরাধ সংঘটনের যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। জাতীয়ভাবে আলোচিত বা অনালোচিত প্রতিটি অপরাধের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্তদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতেও সহযোগিতা করা হয়েছে।

‘এত অল্প সময়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা ঠিক হবে না’ মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীকে জনগণের প্রত্যাশিত ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীতে পরিণত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রেও আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাদের জবাবদিহিতা ও অ্যাকাউন্টেবিলিটি নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার, অ্যাওয়ার্ড ও সনদ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন কেউ আশা করতে পারেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করা হবে, যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, সরকার জনগণের সঙ্গে আছে।’

ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সবার জন্য অনুসরণীয়। তাঁর শিক্ষা হলো শান্তি, ক্ষমা, ধৈর্য, সাম্য, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তাঁর আদর্শের অন্যতম শিক্ষা। সেই আদর্শ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

ছয় মাসে পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৬:০১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ সব শৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজ করছে।

বুধবার (২৬ আগষ্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেখানে জনগণের প্রত্যাশা, আইনের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে যে শৃঙ্খলা বাহিনী পাওয়া গেছে, তা ছিল বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে।

তিনি বলেন, শৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, তাদের মনোবল বৃদ্ধি এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করার কাজ একসঙ্গে চলছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো ঘটনা নেই, যেখানে অপরাধ সংঘটনের পরপরই পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারেনি—এটাই বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় পুলিশসহ শৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ও কর্মপরিবেশ অত্যন্ত নাজুক ছিল। গত ছয় মাসে সেই অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মনোবল ফিরে এসেছে এবং তারা পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে সচেষ্ট হয়েছে।

রংপুরে চার খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনাতেও অপরাধ সংঘটনের যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। জাতীয়ভাবে আলোচিত বা অনালোচিত প্রতিটি অপরাধের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্তদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতেও সহযোগিতা করা হয়েছে।

‘এত অল্প সময়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা ঠিক হবে না’ মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীকে জনগণের প্রত্যাশিত ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীতে পরিণত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রেও আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাদের জবাবদিহিতা ও অ্যাকাউন্টেবিলিটি নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার, অ্যাওয়ার্ড ও সনদ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন কেউ আশা করতে পারেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করা হবে, যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, সরকার জনগণের সঙ্গে আছে।’

ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সবার জন্য অনুসরণীয়। তাঁর শিক্ষা হলো শান্তি, ক্ষমা, ধৈর্য, সাম্য, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তাঁর আদর্শের অন্যতম শিক্ষা। সেই আদর্শ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।