০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নাচোলে জন্মশতবর্ষেও বেদখলে ইলা মিত্রের পৈত্রিক বাড়ি

 

ঐতিহাসিক নাচোল কৃষক বিদ্রোহের নেত্রী ও তেভাগা আন্দোলনের অগ্রদূত ইলা মিত্রের জন্মশতবার্ষিকী রোববার (১৮ অক্টোবর)। নাচোলের ‘রানিমা’খ্যাত ইলা মিত্রের পৈত্রিক বাড়িটি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে অবস্থিত। প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে সরকারি গেজেট প্রকাশের প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাড়িটির জমি অধিগ্রহণ ও সংরক্ষণ কাজ শেষ করা যায়নি। ফলে অযত্ন ও অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়া ঐতিহাসিক এই বাড়িটির অস্তিত্ব আজ বিলীন হওয়ার পথে।

স্থানীয় ইতিহাস ও ইলা মিত্রের জীবনীগ্রন্থ সূত্রে জানা যায়, ১২৯৯ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের বাগুটিয়ায় এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন ইলা মিত্রের দাদা রাজমোহন সেন। ইলা মিত্রের জন্ম কলকাতায় হলেও শৈশব ও কৈশোরে তিনি বেশ কয়েকবার বাগুটিয়া গ্রামে এসেছিলেন। দেশভাগের পর তাদের পূর্বপুরুষেরা কলকাতা চলে গেলে বাড়িটি বেদখল হয়ে যায়। বর্তমানে বাড়িটিতে স্থানীয় কিছু পরিবার বসবাস করছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি সংরক্ষণের দাবিতে স্থানীয় সচেতন মহল, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালে বাড়িটি প্রত্নসম্পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করে বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে গেজেট প্রকাশের দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও জমি অধিগ্রহণ ও দখলমুক্ত করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ১৭ শতক জমির ওপর চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা দোতলা ও একতলা দুটি ভবনের মোট ৯টি কক্ষ ও একটি প্রধান ফটকযুক্ত এই ঐতিহাসিক ভবনটির ছাদের অনেকাংশ ভেঙে গেছে। দেওয়ালে ধরেছে বড় বড় ফাটল এবং চারপাশে জমেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বর্তমানে সেখানে বসবাসরত ব্যক্তিরা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে তারা বাড়িটি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান মিল্টন অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও গেজেটের নির্দেশ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আজ এই ঐতিহাসিক বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ১০ বছরেও সেখানে একটি সাইনবোর্ড পর্যন্ত লাগানো হয়নি।’

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গেজেট প্রকাশের পর বিভিন্ন জটিলতার কারণে বাড়িটি তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। বেদখল হওয়া অংশ উদ্ধার এবং বাড়িটি সংস্কারের জন্য চলতি অর্থবছরের পরিকল্পনা ও বরাদ্দের তালিকায় এটি রাখা হয়েছে। খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

ধুনটে মাদকসেবীকে ৪ মাসের কারাদন্ড

নাচোলে জন্মশতবর্ষেও বেদখলে ইলা মিত্রের পৈত্রিক বাড়ি

Update Time : ০৬:১৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

 

ঐতিহাসিক নাচোল কৃষক বিদ্রোহের নেত্রী ও তেভাগা আন্দোলনের অগ্রদূত ইলা মিত্রের জন্মশতবার্ষিকী রোববার (১৮ অক্টোবর)। নাচোলের ‘রানিমা’খ্যাত ইলা মিত্রের পৈত্রিক বাড়িটি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে অবস্থিত। প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে সরকারি গেজেট প্রকাশের প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাড়িটির জমি অধিগ্রহণ ও সংরক্ষণ কাজ শেষ করা যায়নি। ফলে অযত্ন ও অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়া ঐতিহাসিক এই বাড়িটির অস্তিত্ব আজ বিলীন হওয়ার পথে।

স্থানীয় ইতিহাস ও ইলা মিত্রের জীবনীগ্রন্থ সূত্রে জানা যায়, ১২৯৯ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের বাগুটিয়ায় এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন ইলা মিত্রের দাদা রাজমোহন সেন। ইলা মিত্রের জন্ম কলকাতায় হলেও শৈশব ও কৈশোরে তিনি বেশ কয়েকবার বাগুটিয়া গ্রামে এসেছিলেন। দেশভাগের পর তাদের পূর্বপুরুষেরা কলকাতা চলে গেলে বাড়িটি বেদখল হয়ে যায়। বর্তমানে বাড়িটিতে স্থানীয় কিছু পরিবার বসবাস করছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি সংরক্ষণের দাবিতে স্থানীয় সচেতন মহল, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালে বাড়িটি প্রত্নসম্পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করে বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে গেজেট প্রকাশের দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও জমি অধিগ্রহণ ও দখলমুক্ত করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ১৭ শতক জমির ওপর চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা দোতলা ও একতলা দুটি ভবনের মোট ৯টি কক্ষ ও একটি প্রধান ফটকযুক্ত এই ঐতিহাসিক ভবনটির ছাদের অনেকাংশ ভেঙে গেছে। দেওয়ালে ধরেছে বড় বড় ফাটল এবং চারপাশে জমেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বর্তমানে সেখানে বসবাসরত ব্যক্তিরা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে তারা বাড়িটি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান মিল্টন অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও গেজেটের নির্দেশ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আজ এই ঐতিহাসিক বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ১০ বছরেও সেখানে একটি সাইনবোর্ড পর্যন্ত লাগানো হয়নি।’

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গেজেট প্রকাশের পর বিভিন্ন জটিলতার কারণে বাড়িটি তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। বেদখল হওয়া অংশ উদ্ধার এবং বাড়িটি সংস্কারের জন্য চলতি অর্থবছরের পরিকল্পনা ও বরাদ্দের তালিকায় এটি রাখা হয়েছে। খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’